যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যে বড় একটি ধাক্কা খেল চীন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছে চীন। এটি ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। শিল্পোৎপাদনে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ হওয়া সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি সক্ষমতা চীনের একটি দুর্বল জায়গা। প্রযুক্তিগত অবরোধের ক্ষেত্রে তা ওয়াশিংটনের বড় হাতিয়ার। খবর দ্য স্টার।
সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ প্রযুক্তি জগতে এক অনন্য উদ্ভাবন। গাড়ি থেকে স্মার্টফোন সবক্ষেত্রে এর একচ্ছত্র আধিপত্য। এক্ষেত্রে আধিপত্য অর্জন করতে না পারলে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চীনকে শ্রেষ্ঠ ডিজিটাল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রে পরিণত করার আশা নিরাশায় পরিণত হবে। সেই সঙ্গে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি হওয়ার স্বপ্নও অধরাই রয়ে যাবে।
গত বছরের আগস্টে দ্বিপক্ষীয় চিপস অ্যান্ড সায়েন্স আইনে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আমেরিকার সেমিকন্ডাক্টর খাতের উন্নয়ন জোরদার করার জন্য ৫ হাজার ২৭০ কোটি ডলার ভর্তুকি হিসেবে দিয়েছে সে দেশের ফেডারেল সরকার। তারই অংশ হিসেবে প্রযুক্তিগত অবরোধের তালিকা বাড়িয়েছে বাইডেন প্রশাসন। এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে উন্নততর সেমিকন্ডাক্টর পণ্য, চিপ-নির্মাণ সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি খাতে মেধাবী কর্মী। গত মাসে অবরোধ প্রচেষ্টা আরো ত্বরান্বিত হয়। সে প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চীনে চিপ নির্মাণের সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ সীমিত করতে জাপান ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে একটি সমঝোতায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।
চীনের জন্য পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। এ বছরের শেষ দিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ‘ইইউ চিপস অ্যাক্ট’ পাস করার সম্ভাবনা আছে। এ আইন অনুসারে নিজেদের উৎপাদন দ্বিগুণ করার মাধ্যমে বৈশ্বিক চিপ উৎপাদনে ইউরোপের শেয়ার ২০ শতাংশে উন্নীত করার আশা করছে ইইউ।
দ্য স্টারের প্রতিবেদন অনুসারে, সেমিকন্ডাক্টরের ক্ষেত্রে আধিপত্য লাভের তাড়না যতটা না অর্থনৈতিক, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। পত্রিকাটির মতে, এর মাধ্যমে শিল্পোন্নয়নের গতিমুখই কেবল বদলে যাবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থনীতিও নতুন রূপ লাভ করবে।
সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ধারণা দেয়নি বেইজিং। তবে বাজার দখলের ক্ষেত্রে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করার জন্য ওয়াশিংটনের সমালোচনা করেছে বেইজিং।










