দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুগ্ধ শিল্পের গুণগতমান বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে প্রাইভেট ইকুইটি কোম্পানিগুলো। যাদের অনেকেই আগামী বছরগুলোয় খাতটিতে মোটা অংকের বিনিয়োগের কথা ভাবছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
দুগ্ধজাত পণ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভোক্তাদের কাছে অভিজাত খাবার বলে বিবেচিত। অঞ্চলটির বিশাল জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী এবং ভোক্তাদের ব্যয় বৃদ্ধি দুগ্ধজাত পণ্য ক্রয়ের প্রবণতা বাড়তে ভূমিকা রেখেছে।
চলতি বছর ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় দুগ্ধ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে গ্রোথাম ক্যাপিটাল পার্টনার্স। গত এপ্রিলে ভিয়েতনামভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ডেইরি প্রোডাক্টসে (আইডিপি) ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে কোম্পানিটি। গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার কেআইএন ডেইরিতেও ৭ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মটি।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমিত কুনাল বলেন, ‘মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ পুষ্টি চাহিদা মেটাতে স্বাস্থ্যকর পণ্যের দিকে ঝুঁকবে। যদিও ভোক্তাপণ্যের অন্যান্য ক্যাটাগরিতে কিছুটা মন্থরতা রয়েছে। তার পরও দুগ্ধজাত পণ্য প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে।’
চলতি বছরের অন্যান্য চুক্তির মধ্যে ইন্দোনেশিয়া স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত খাদ্য ও পণ্য প্রাইভেট ইকুইটি ফার্ম সিসারুয়া মাউন্টেন ডেইরিতে ১৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে জেনারেল আটল্যান্টিক। অন্যদিকে, ভিটাডেইরি নামে আরেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের ৩০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির চেষ্টা করছে।
আগেও ডেইরি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মগুলো। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে মালয়েশিয়ায় দ্য হলস্টেইন মিল্ক কোম্পানি ও সাউদার্ন ক্যাপিটাল গ্রুপের এফ অ্যান্ড বি নিউট্রিশন অধিগ্রহণে অর্থায়ন করেছিল ডাইমন এশিয়া প্রাইভেট ইকুইটি।
অন্যদিকে, টিপিজি ও নর্থস্টার তিন বছর আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এগ্রিফুড কোম্পানি জাপফার কনজিউমার ডেইরি ব্যবসা কিনে নেয়।
বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও সম্পদের প্রবৃদ্ধির কারণে প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মগুলো এ খাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) খাদ্য ও কৃষি ব্যবসায় বিনিয়োগ দলের প্রধান মার্টিন লেমোইনের মতে, অতি উচ্চ তাপমাত্রার দুধ থেকে শুরু করে দই ও পনিরসহ নানা ধরনের মানসম্পন্ন দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা পূরণ করায় খাতটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।










