পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রজ্ঞাপন অনুসারে ‘জেড’ ক্যাটাগরির তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিশনের কাছে জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও স্টক এক্সচেঞ্জের কাছ থেকে এ-সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন পায়নি কমিশন। ফলে সম্প্রতি এক চিঠির মাধ্যমে এ বিষয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলেছে বিএসইসি।

বিএসইসির সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান রনি স্বাক্ষরিত চিঠিতে গত ২৫ জুন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ক্যাটাগরি পরিবর্তনসংক্রান্ত সংবাদ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ‘জেড’ ক্যাটাগরির অধীনে লেনদেন করা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে কমিশনের ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্দেশনার প্রাসঙ্গিক শর্তগুলো মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আছে। নির্দেশনার ৭ নম্বর শর্ত অনুসারে, স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে ‘জেড’ ক্যাটাগরির অধীনে লেনদেন করা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সব পর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার বাধ্যবাধকতা আছে। সেই সঙ্গে এ বিষয়ে বিএসইসির কাছে প্রতিবেদন পাঠানোর শর্ত আছে। তবে ২০২০ সালে উল্লিখিত নির্দেশনা জারির পর বিএসইসি এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের কাছ থেকে কোনো প্রতিবেদন পায়নি। তাই এ পরিস্থিতিতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ধারা ৬(৩) ও এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩-এর ধারা ২০ অনুযায়ী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের অবস্থান ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেয়া হলো।

বিএসইসির চিঠিতে ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুসারে জেড ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর জন্য অনুসরণীয় বিষয়গুলোর একটি তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে। সেগুলো স্টক এক্সচেঞ্জের পর্যবেক্ষণ করার কথা। এর মধ্যে রয়েছে ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির উদ্যোক্তা বা পরিচালকরা কমিশনের অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের ক্রয়-বিক্রয়, হস্তান্তর ও বন্ধকি দিতে পারবেন না। এছাড়া ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে পর্ষদ পুনর্গঠন করতে হবে। এক্ষেত্রে কমিশন এক বা একাধিক স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেবে। পর্ষদ পুনর্গঠন করতে ব্যর্থ হলে বর্তমান পরিচালক ও উদ্যোক্তারা অন্য কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারী কোনো কোম্পানির পরিচালক হিসেবে থাকতে পারবেন না। ‘জেড’ ক্যাটাগরির সব কোম্পানি ছয় মাসের মধ্যে এজিএম বা ইজিএম আয়োজন করবে। সব ধরনের শেয়ারহোল্ডার মিটিং (এজিএম/ইজিএম) ডিজিটাল প্লাটফর্মে অথবা হাইব্রিড সিস্টেমে করতে হবে। পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ চার বছরের মধ্যে কোম্পানির সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হলে স্টক এক্সচেঞ্জ সেই কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করাসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচটি কোম্পানিকে ‘এ’ থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করেছে ডিএসই। কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস (আরএএসআরএম), সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, অ্যাপোলো ইস্পাত ও নূরানী ডায়িং। ক্যাটাগরি পরিবর্তন করার কারণ হিসেবে ডিএসই জানিয়েছিল, কোম্পানিগুলো বিএসইসির আইন অমান্য করায় কোম্পানিগুলোকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।