বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এড়াতে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) তৈরির দিকে মনোনিবেশ করছে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। শূন্য কার্বন নিঃসরণকারী এ গাড়ির ব্যাটারি চার্জ করতে চার্জিং স্টেশনও স্থাপন করা হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। এরই ধারাবাহিকতায় সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে চার্জিং স্টেশনের একটি নেটওয়ার্ক স্থাপন করছে জ্বালানি সংস্থাগুলো। খবর নিক্কেই এশিয়া।
সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেপেল গ্রুপের আওতাধীন গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিটি এনার্জি। মালয়েশিয়ার ইভি কানেকশনের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সম্প্রতি ইভি চার্জিং বাজারে প্রবেশ করেছে সংস্থাটি। সিটি এনার্জির গো অ্যাপ ব্যবহার করে গাড়িচালকরা চার্জিং স্টেশন খুঁজে নিতে পারবেন। এছাড়া রিচার্জের সময়সূচি নির্ধারণ করাসহ পেমেন্ট করারও সুবিধা থাকবে।
চলতি দশকজুড়ে মোট ৭ কোটি ৭২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে সিটি এনার্জি। ১৩টি আবাসিক উন্নয়ন অঞ্চলে চার্জিং স্টেশন স্থাপনও এ ব্যয় পরিকল্পনার অংশ। বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ রোধে পরিষেবা হিসেবে জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সিটি এনার্জি। এর জের ধরেই ইভি চার্জিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। অন্যদিকে এ বছরের মধ্যেই চার্জিং স্টেশনের নেটওয়ার্ক ৭০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে ইভি কানেকশনের।
এদিকে ইভি চার্জিংয়ের বাজার ক্রমেই প্রতিযোগী হয়ে উঠছে। সিঙ্গাপুরের ইভি চার্জিং বাজারে ফ্রান্সভিত্তিক টোটাল এনার্জি নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করছে। সিঙ্গাপুরের চার্জপ্লাসসহ আরো পাঁচটি প্রধান প্রধান প্রতিষ্ঠান এ প্রতিযোগিতায় রয়েছে।
ইভি চার্জিং নেটওয়ার্ক তৈরিতে নাম লেখাতে যাচ্ছে জ্বালানি সংস্থা শেলও। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি একটি গ্যাস স্টেশনে ১৮০ কিলোওয়াটসম্পন্ন চার্জার স্থাপন করেছে। গ্যাস স্টশনটি মালয়েশিয়ার পেনিনসুলায় অবস্থিত। চার্জারটি ৩০ মিনিটের ব্যবধানে একটি পোর্শে টায়কান ইভির ৮০ শতাংশ চার্জ পূর্ণ করতে সক্ষম। এছাড়া মালয়েশিয়ার হাইওয়েতে ১২টি সুপারফাস্ট চার্জার স্থাপন করবে শেল। এ বছরের মধ্যেই থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে চার্জারগুলো স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত দামি ইভি চার্জের জন্যই চার্জার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে শেল। এর মাসিক ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯০ ডলার। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন অ্যাপ রিচার্জে সুপারচার্জারগুলো যোগ করারও পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে চীন বাদে এশিয়াজুড়ে পাঁচ হাজার চার্জারের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করবে শেল।
এ বিষয়ে শেলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমর আদেল বলেন, দেশের বাইরেও অ্যাপটি ব্যবহার করা যাবে। একটি সমৃদ্ধ ডিজিটাল পরিষেবা নিশ্চিত করাই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিঙ্গাপুরে ইভির বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি অঞ্চলটিতে আশানুরূপ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে চার্জিং স্টেশনের জন্য আকর্ষণীয় বাজার তৈরি হবে সিঙ্গাপুরে।
এদিকে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি গাড়ি পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে চলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সিঙ্গাপুর সরকার। ২০৩০ সালে দেশটিতে ইভি চার্জারের সংখ্যা ৬০ হাজারে উন্নীত করার প্রত্যাশা রয়েছে। গত বছর সংখ্যাটি ছিল ১ হাজার ৮০০। গত বছর দেশটিতে ইভির সংখ্যা ২ হাজার ৯৪২ ইউনিটে পৌঁছেছে। সে হিসেবে ২০২০ সালের তুলনায় দেশটিতে ইভি বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ। এছাড়া গত বছর মোট নতুন গাড়ি বিক্রির ৩ দশমিক ৮ শতাংশই ছিল ইভি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয়ের দেশ সিঙ্গাপুর। দেশটিতে মাথাপিছু আয় ৬০ হাজার ডলার। এছাড়া মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড।










