ভারতের জি এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে জাপানের সনি গ্রুপের একীভূতকরণের প্রক্রিয়া ভেস্তে গেল। নতুন সৃষ্ট ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলারের সংস্থার নেতৃত্ব কে দেবে, এ নিয়ে অচলাবস্থার পর এ প্রক্রিয়া সমাপ্তির চিঠি পাঠিয়েছে জাপানি সংস্থাটি। গতকাল সোমবার বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র খবরটি নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজনি স্টারের সঙ্গে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের আসন্ন একীভূতকরণের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় বিনোদন বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করেছে। কিন্তু সেখান থেকে পিছিয়ে গেল জি ও সনি।
গতকাল দিনের শুরুতে জি এন্টারটেইনমেন্টকে পাঠানো একটি চিঠিতে একীভূতকরণ চুক্তির শর্ত অপূর্ণ থাকার কথা উল্লেখ করে সনি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সনি। অন্যদিকে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি জি।
দুই বছরেরও বেশি সময় আগে একীভূতকরণের ঘোষণা এসেছিল। কিন্তু এ সময়ও সম্মিলিত কোম্পানির নেতৃত্ব কে দেবে তা নিয়ে অচলাবস্থা কাটেনি। সিইও পুনিত গোয়েঙ্কার নাম প্রস্তাব করেছিল জি, কিন্তু তার বিরুদ্ধে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা পরিচালিত তদন্ত ফলাফলের ভিত্তিতে অসম্মতি জানায় সনি।
গত ১৯ জানুয়ারি জি বলেছিল, তারা একীভূতকরণের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য কাজ করছে। এজন্য ২০ জানুয়ারি সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিল। এর দুদিন পরই এল চুক্তি প্রক্রিয়া গুটিয়ে নেয়ার খবর।
এ বিষয়ে ইলারা ক্যাপিটালের বিশ্লেষক করণ তৌরানি বলেন, এ চুক্তি না হওয়া উভয় পক্ষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ ভারতীয় ডিজিটাল বাজারে প্রতিযোগিতা নতুন উচ্চতার দিকে যাচ্ছে। এর মধ্যে রিলায়েন্স-ডিজনি চুক্তিটি হয়ে গেলে প্রতিযোগিতার তীব্রতা বৃদ্ধি তাদের জন্য সম্ভাব্য হুমকির কারণ হবে।
নেটফ্লিক্স ও অ্যামাজনের মতো গ্লোবাল জায়ান্টের সঙ্গে প্রতিযোগিতার বাজারে মুনাফা, বিজ্ঞাপনের রাজস্ব ও নগদ অর্থের দিক থেকে লড়াইয়ে টিকে রয়েছে জি এন্টারটেইনমেন্ট। সে দিক থেকে এ চুক্তি থেকে ছিটকে পড়ায় ভারতীয় মিডিয়া জায়ান্টটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বেশি। এছাড়া ক্রিকেট সম্প্রচার নিয়ে ডিজনি-স্টারের সঙ্গে চার বছরের চুক্তিটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মেয়াদকালে কোনো কারণে চুক্তি ভেঙে গেলে ডিজনিকে ১৩২-১৪৪ কোটি ডলার দিতে হবে জির।
২০২২ সালের অক্টোবরে দুই মিডিয়া সংস্থার সংযুক্তিকরণের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের সবুজ সংকেত পায়। পরের বছরের আগস্টে জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইব্যুনাল বা এনসিএলটি অনুমোদন পায়। এর পরই পুঁজিবাজারে জির শেয়ারদর ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।










