বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া। বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি পাম অয়েল উৎপাদন করে দেশটি। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশটিতে ভোজ্যতেলের সংকট ক্রমেই বাড়ছে। এতে ভোজ্যতেল কিনতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে দেশটির নাগরিকদের। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জন্য যা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। খবর সিএনএ।
ইন্দোনেশিয়ান পাম অয়েল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, গত বছর দেশটিতে ৪ কোটি ৭০ লাখ টন অপরিশোধিত পাম অয়েল (সিপিও) উৎপাদন হয়। সে হিসাবে এ বছরে দেশটিতে ভোজ্যতেলের সংকট হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির জেরে দেশটির রফতানিকারকরা বাড়তি দাম পেতে রফতানিতে ঝোঁকেন। পাশাপাশি বাড়তি মজুদ করতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে।
গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সিপিওর দাম ছিল ১ হাজার ৩০০ ডলার, যা বেড়ে বর্তমানে ১ হাজার ৬০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাড়তি আয়ের জন্য ইন্দোনেশিয়ার রফতানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। এতে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। আগে যেখানে প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১ হাজার ৪০০ রুপিয়া থেকে ১ হাজার ৫০০ রুপিয়া ব্যয় করতে হতো। মূল্যবৃদ্ধির জেরে এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে দু-তিন গুণ পর্যন্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকার প্রতি লিটার তেলের জন্য ১ হাজার ৪০০ রুপিয়া নির্ধারণ করে দেয়। একই সঙ্গে রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সম্প্রতি দেশটির মোট রফতানির ৩০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে ইন্দোনেশিয়া সরকার। যেটিকে ডিএমও বলা হয়। গত জানুয়ারিতে ডিএমও নির্ধারণ করা হয় ২০ শতাংশ। তবে এখন এ কোটা বাড়ানোর পরও অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট কাটছে না।
নাগরিকদের অভিযোগ, ডিএমও বাড়ানো হলেও তারা বাড়তি দামেও ভোজ্যতেল কিনতে পারছে না। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরেও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ছোট-মাঝারি মার্কেটগুলোয় ক্রেতাদের লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেক খুচরা ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধ করেছেন। আবার অনেক মার্কেটে জনপ্রতি দুই লিটারের বেশি ভোজ্যতেল বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভোজ্যতেলের সংকটের মধ্যে দেশটির সুপারমার্কেটগুলোয় আমদানি করা তেল বিক্রি বেড়েছে। সরিষা ও সূর্যমুখীসহ আমদানি করা এসব তেল লিটারপ্রতি ৭ হাজার ২০০ রুপিয়া পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
জাকার্তাভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, ১৫ বছরের মধ্যে তারা ভোজ্যতেলের এমন সংকট দেখেননি। এখন বাধ্য হয়েই প্লাস্টিক ব্যাগে বাজারে বিক্রি হওয়া নিম্নমানের তেল কিনছেন তিনি।










