করপোরেট বোর্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সম্প্রতি করপোরেট বোর্ডে নারীর আসন সংখ্যা অন্ততপক্ষে ৪০ শতাংশ করার বিষয়ে একমত হয়েছে জোটটি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
করপোরেট বোর্ডে ১০ বছর ধরে নারী অংশগ্রহণ ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল। লিঙ্গবৈষম্য দূর করার উদ্দেশ্যেই ইইউর আইনপ্রণেতারা এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পর্যাপ্তসংখ্যক নারী কর্মী নিয়োগ দেয়া না হলে প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা গুনতে হবে।
২০২৬ সালের ৩০ জুন থেকে ইইউ সদস্যভুক্ত দেশগুলোর বড় বড় প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদের হার অন্ততপক্ষে ৪০ শতাংশ করতে হবে। এছাড়া জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভূমিকায় অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী থাকতে হবে।
গত বছর ইইউ সদস্যভুক্ত দেশগুলোর প্রতিষ্ঠানগুলোয় বোর্ডরুমে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ নারী থাকতে হবে। ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট ফর জেন্ডার ইকুয়ালিটির তথ্য বলছে, ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠানগুলোর বোর্ডে নারী সদস্য ৪০ শতাংশ আছে। এছাড়া নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, বেলজিয়াম ও জার্মানির প্রতিষ্ঠানগুলোয় বোর্ডরুমে নারীদের অংশগ্রহণের হার ৩৬-৩৮ শতাংশের মধ্যে। হাঙ্গেরি, এস্তোনিয়া ও সাইপ্রাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর এটি ১০ শতাংশ।
ইইউ দেশগুলোর সরকারদের সঙ্গে নতুন আইনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন লারা ওলটারস। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তথ্যমতে নিছক ভাগ্যের জোরে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর লিঙ্গসমতা অর্জন করা হয় না। আমরা জানি, বোর্ডরুমে বৈচিত্র্যায়ণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরো ভালো হয়। এর ফলাফলও তুলনামূলক ভালো। নারী কোটার এ নিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোয় বৈচিত্র্যায়ণের পাশাপাশি লিঙ্গসমতা আরো জোরদার হবে ও সঠিক পথে পরিচালিত হবে।
২০১২ সালে সর্বপ্রথম ইউরোপীয় কমিশন ৪০ শতাংশ নারী কোটার প্রস্তাব পেশ করেছিল। তবে জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের বাধায় পরিকল্পনাটি বানচাল হয়। যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ-লিবারেল ডেমোক্র্যাট সরকারের তরফ থেকে এ নিষেধাজ্ঞা আসে। তবে আন্তর্জাতিক এক সমীক্ষায় দেখা যায়, চলতি বছরের মধ্যে দেশটির এফটিএসই-১০০ বোর্ডে নারীদের অংশগ্রহণের হার দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ১ শতাংশে। সেক্ষেত্রে নারী অংশগ্রহণের দিক থেকে ফ্রান্সের পরই যুক্তরাজ্যের অবস্থান।
এদিকে ২০২০ সালে ইউরোপীয় কমিশন খসড়া আইন পুনরায় নবায়ন করে। এ বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, প্রতিষ্ঠানে নারী অংশগ্রহণ বাড়াতে ১০ বছর আগে ইউরোপীয় কমিশন এ প্রস্তাব দিয়েছিল। এখন সব বাধা অতিক্রমের সময় এসেছে। শীর্ষ কর্মসংস্থানের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক উপযুক্ত নারী আছে। তাদের এ সুযোগ দেয়া উচিত।










