অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যাংক নেগারাকে সুদহার কমানোর বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন মালয়েশিয়ার অর্থনীতিবিদরা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৯ শতাংশ হওয়ার পর এ পরামর্শ দেয়া হলো। খবর রয়টার্স।

মালয়েশিয়ার তুন আব্দুল রাজাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ বারজোয়াই বারদাই জানান, ঋণের হার কমানো হলে ভোক্তা ব্যয় বাড়বে। কারণ এটি তাদের নিষ্পত্তিযোগ্য আয়কে বাড়িয়ে তুলবে। ব্যাংক নেগারা দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে উদ্দীপিত করতে রাতারাতি ব্যাংক হার কমাতে পারে।

তিনি বলেন, ‘ওপিআর বা আন্তঃব্যাংক ঋণের হার ভোক্তা ব্যয়কে প্রভাবিত করে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য ব্যাংক নেগারা এটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। যখন আমাদের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়, তখন কার্যক্রমকে সচল রাখতে ওপিআর কমানো হয়। এ পদ্ধতি সাধারণত মন্দার সময় গৃহীত ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করে। যেখানে প্রাথমিক উদ্দেশ্য থাকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সহজতর করা।’

বারজোয়াই বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে চলমান উত্তেজনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মন্থর করে দিয়েছে। এসব কারণে আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত নিজেদের দেশীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।’

মালয়েশিয়ার ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক রিসার্চের অর্থনীতিবিদ শঙ্করান নাম্বিয়ার বলেন, ‘চলতি বছর ২ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধির হার শুধু প্রত্যাশার চেয়ে কম নয়, এটি তৃতীয় প্রান্তিকে আরো কমে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।’

দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক মে মাসে যখন ওপিআর ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন পর্যবেক্ষকরা বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। এটিকে প্রাকমহামারী স্তরে ফিরে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন তারা।