এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (অ্যাপেক)ভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগামী বছর কমবে। এ প্রবৃদ্ধির হার যুক্তরাষ্ট্রের গড় প্রবৃদ্ধি থেকে নিচে থাকবে বলে জানান অর্থনীতিবিদরা। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
অ্যাপেক সেক্রেটারিয়েটের পলিসি সাপোর্ট ইউনিট সান ফ্রান্সিসকোতে শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে। এ প্রতিবেদন অনুসারে, ২১ দেশের প্রবৃদ্ধির হার ২০২৩ সালে ৩ দশমিক ৩ থেকে ২০২৪ সালে ২ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে যাবে।
অ্যাপেকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার5২০২৫ ও ২০২৬ সালে গড়ে ২ দশমিক ৯ শতাংশ হবে। এ সময় বিশ্বব্যাপী গড় প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং বাকি বিশ্বের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশের নিচে থাকবে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য প্রধান ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে রফতানি বিধিনিষেধ, ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতি, বিরূপ আবহাওয়া (যা চাল এবং অন্য কৃষিপণ্যের দাম বাড়িয়েছে) এবং সার সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরো কঠোর মুদ্রানীতি প্রয়োগ করার প্রয়োজন হতে পারে। এতে প্রবৃদ্ধি আরো মন্থর হবে।
চীনের মন্থর প্রবৃদ্ধির কারণে ২০২৩ সালের পরের বছর অ্যাপেক দেশগুলোর মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়বে। এটা পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ৪ দশমিক ৩ এবং পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে। রফতানি ও আমদানি উভয়ের প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ভূরাজনৈতিক বিভাজনের কারণে ২০২৬ সালে কিছুটা কমবে, যা দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সম্পর্ককে নষ্ট করতে পারে।
অ্যাপেক পলিসি সাপোর্ট ইউনিটের ডিরেক্টর কার্লোস কুরিয়ামা বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে চলা শুল্ক লড়াই এবং রফতানি নিয়ন্ত্রণ দূর করা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে একটি উচ্চস্তরের বৈঠকে আগামীকাল বসার কথা রয়েছে।
কুরিয়ামা বলেন, ‘রফতানি নিয়ন্ত্রণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অন্যান্য বিধিনিষেধ বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহ খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটা একসময় প্রয়োজনে প্রয়োগ করা হয়েছিল। এখন এটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।"আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।’










