ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয় এবং প্রধান প্রধান বাজারে দুর্বল চাহিদার প্রভাবে ইস্পাতের বৈশ্বিক বাজার বিপর্যস্ত। ধাতব পণ্যটির দাম এরই মধ্যে কমতির দিকে। পরিস্থিতিতে পরিবর্তন না এলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাজার আরো নিম্নমুখী হয়ে উঠতে পারে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ইউরোপের বাজারে ইস্পাতের দাম লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। অঞ্চলটিতে লম্বা সময় ধরেই ঊর্ধ্বমুখী ব্যয়ের চাপে উৎপাদন নিম্নমুখী। এমন পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার কথা থাকলেও ঘটেছে উল্টো ঘটনা। ব্যয় সামাল দিতে না পেরে অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছে। গত বছরের তুলনায় দুর্বল চাহিদার কারণে হতাশায় দিন কাটছে খাতসংশ্লিষ্টদের।
তথ্য বলছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানির দামই ঊর্ধ্বমুখী। আর ইস্পাত উৎপাদন পুরোপুরিভাবেই জ্বালানিনির্ভর হওয়ায় ধাতুটির উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। অন্যদিকে সরবরাহ চেইনে খারাপ পরিস্থিতি জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা পালন করছে। ফলে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বৃহৎ শিল্প উৎপাদন খাত। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব প্রতিবন্ধকতা শিগগিরই কেটে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে চলতি বছর বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার স্লথ হয়ে পড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এতে বলা হয়, প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ২ দশমিক ৯ শতাংশে। এদিকে ধীরগতির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ইস্পাতের চাহিদা পরিস্থিতির জন্য অশনিসংকেত বয়ে আনছে। কারণ জিডিপি প্রবৃদ্ধির উত্থান-পতনের সঙ্গে ইস্পাতের চাহিদা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
চীন বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক ও ব্যবহারকারী দেশ। ধাতব পণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজার চীনের ওপর নির্ভরশীল। কার্বন নিঃসরণ রোধকল্পে দেশটি গত বছর থেকে ইস্পাত উৎপাদন কমিয়ে দেয়। তবে চলতি বছর এ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছে দেশটি। চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের দেয়া তথ্য বলছে, এপ্রিলে দেশটির ইস্পাত উৎপাদন বেড়ে ১০ মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে মে মাসে পণ্যটির রফতানি বেড়ে ৭৭ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে, যা এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে স্থানীয় বাজারে পণ্যটির চাহিদা ব্যাপক হারে কমেছে।
প্রসঙ্গত, এপ্রিলে বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের উৎপাদন কমেছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ২৭ লাখ টনে। একই সময় চীনে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন কমেছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। এপ্রিলে চীনের উৎপাদিত ইস্পাতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি ২৮ লাখ টনে। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ চিত্র দেখা যায়।
গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন কমেছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। উল্লিখিত সময়ে শিল্প ধাতুটির মোট বৈশ্বিক উৎপাদন দাঁড়ায় ৬১ কোটি ৯১ লাখ টনে। গত মাসে শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী ১০টি দেশের সাতটিই নেতিবাচক চিত্র দেখেছে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ভারত, রাশিয়া ও তুরস্ক। এপ্রিলে ভারতে ইস্পাত উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। এ সময়ে তুরস্কের ইস্পাত উৎপাদন বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ ও রাশিয়ার দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে ইরান শিল্প ধাতুটির উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক চিত্র দেখেছে। গত মাসে দেশটির ইস্পাত উৎপাদন কমেছে ২০ দশমিক ৭ শতাংশ।










