বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘একটি কাজের জন্য মন্ত্রণালয়ে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। এ ধরনের অহেতুক কালক্ষেপণ ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। অথচ এগুলো দেখার জন্য সরকার লোক নিয়োগ করে রেখেছে। মন খুলে এগুলো দেখলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।’ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গতকাল রপ্তানি উন্নয়ন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘রফতানি বৃদ্ধির বিকল্প নেই। রফতানি বাড়ানোর অনেক সম্ভাবনাময় খাত আছে। দেশে রফতানিযোগ্য বৈচিত্র্যময় নানা পণ্যের সমাহার রয়েছে। এগুলো কাজে লাগানোর জন্য দরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।’
নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধান করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ ও ২০৪১ সালের যে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ম-নীতির বেড়াজালে উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন আটকে যায়। এসব বাধা দূর করার জন্য আইন ও নীতিমালা বদলাতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে লাল ফিতার বাধা দূর করতে হবে। সবার সহযোগিতায় আমাদের রফতানি আয় এখন ৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে আমাদের।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বে ডেনিমে প্রথম এবং তৈরি পোশাক শিল্পে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এটি আমাদের মতো দেশের জন্য কত যে গৌরব ও অহংকারের, তা সবাই বুঝি। সেবা নিশ্চিত করতে হলে লালফিতার দৌরাত্ম্য দূর করতে হবে। এ শব্দ আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত। সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্বে অবহেলা করে টেবিলে কাজ ফেলে রাখা উচিত নয়। যেদিনের কাজ সেদিনেই করতে হবে। আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখা যাবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে সহায়তা করা। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের মাধ্যমে যেন ব্যবসা-বাণিজ্যের কোনো প্রতিবন্ধকতা না ঘটে সেজন্য সিনিয়র কর্মকর্তাদের কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। কৃষক, শ্রমিক ও উদ্যোক্তারা সম্পদ সৃষ্টি করছেন। সম্পদ বাড়ানো ও সুসংহত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের সহায়কের ভূমিকা পালন করতে হবে। কেউ সহায়তা নিতে এসে যেন ফেরত না যান, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।’
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) চেয়ারম্যান এএইচএম আহসানের সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য দেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।
আগারগাঁও পর্যটন করপোরেশন ভবনের পাশে রপ্তানি উন্নয়ন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনটি ১৫ তলাবিশিষ্ট হবে। ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে ২৮৪ কোটি টাকা। ভবন নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৬ সালের জুনে।
এদিকে গতকাল ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) এক কোটি ফ্যামিলি কার্ড স্মার্ট কার্ডে রূপান্তর করে বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সারা দেশে বিনামূল্যে এ স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে। কার্ড পেতে কার্ডধারীদের আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। এ সময় টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান পিএসসি এবং ডিএসসিসির ১২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মামুন রশিদ শুভ্রসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে টিপু মুনশি বলেন, ‘টিসিবির এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডকে স্মার্ট কার্ডে রূপান্তর করায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অসামঞ্জস্যতা দূর হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরিব-দুঃখী ও অসহায় মানুষের কথা বিবেচনা করে এক কোটি ফ্যামিলি কার্ড অর্থাৎ পাঁচ কোটি মানুষকে কম মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাংলাদেশে যে পরিমাণ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে তার চেয়েও বেশি মানুষের কাছে সরকার ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে।’










