ফিউচার মার্কেটে গতকাল আবারো কমেছে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম। মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি এক্ষেত্রে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে। তবে পণ্যটির লেনদেন কমে যাওয়ায় মূল্যবৃদ্ধির মাত্রা ছিল সীমিত। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশটিতে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং শীর্ষ সরবরাহকারী দেশগুলোয় মজুদ কমার কারণেও কয়েকদিন ধরেই বাজারদর ঊর্ধ্বমুখী। বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে গতকাল মার্চ সরবরাহ চুক্তিতে পাম অয়েলের দাম ৩ রিঙ্গিত বা দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৩ হাজার ৭৬৬ রিঙ্গিতে (৮১৩ ডলার ৯২ সেন্ট)। 

তথ্য বলছে, ডালিয়ান এক্সচেঞ্জে সয়াবিন তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তি মূল্য ১ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে। সেখানে পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অন্যদিকে শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) সয়াবিন তেলের দাম দশমিক ২১ শতাংশ বেড়েছে।

ইন্টারটেক টেস্টিং সার্ভিসেস ও অ্যামসপ্যাক এগ্রি মালয়েশিয়ার দেয়া তথ্যমতে, ১-২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ার পাম অয়েল রফতানি আগের মাসের একই সময়ের তুলনায় ৪-১৬ শতাংশ কমেছে। 

মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ড চলতি বছরের জন্য দেশটির পাম অয়েল উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়েছে। বছর শেষে উৎপাদনের পরিমাণ ১ কোটি ৭৯ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টনের মধ্যে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বোর্ডসংশ্লিষ্টরা। 

প্রাথমিক পূর্বাভাসে উৎপাদনের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৯০ লাখ টন। তবে বছরের শেষ প্রান্তিকে এসে পাম অয়েল বোর্ড পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। তবে ২০২২ সালের তুলনায় উৎপাদন বেশি হবে বলেও সংশোধিত পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ টন। 

পাম অয়েল বোর্ড আরো জানিয়েছে, শক্তিশালী চাহিদা ও সীমিত সরবরাহের কারণে চলতি বছরের শেষ নাগাদ পাম অয়েলের দাম বেড়ে দাঁড়াতে পারে টনপ্রতি গড়ে ৮৫৬ ডলার ৭৫ সেন্ট বা ৪ হাজার রিঙ্গিতে।

মালয়েশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক ও রফতানিকারক। নভেম্বরে দেশটিতে পাম অয়েলের মজুদ কমেছে। সাত মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো মজুদ কমল। মূলত রফতানির তুলনায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় মজুদে টান পড়েছে।

আগামী বছরের জানুয়ারির জন্যও অপরিশোধিত পাম অয়েলের রফতানি শুল্ক ৮ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে মালয়েশিয়া। তবে পণ্যটির ন্যূনতম মূল্য বাড়ানো হয়েছে।