সম্প্রতি লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে পাম অয়েলসহ অন্যান্য ভোজ্যতেলের দাম। এ পরিস্থিতিতে কিছু কোম্পানি পাম অয়েল প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ করে দেয়। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাম অয়েল মিলারদের প্রতি দাম কমে গেলেও উৎপাদন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
মালয়েশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক দেশ। দেশটির শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, দাম অলাভজনক পর্যায়ে পৌঁছলেই দেশটির মিলগুলো সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
তথ্য বলছে, চলতি মাসে অপরিশোধিত পাম অয়েলের সবচেয়ে বড় দরপতন দেখেছে মালয়েশিয়া। পণ্যটির দাম ২২ শতাংশ কমে ১৩ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। অর্থাৎ চলতি বছর দাম যতটুকু বেড়েছে তার পুরোটাই এ দরপতনে বিফল হয়ে গিয়েছে।
সরকারসংশ্লিষ্টরা জানান, মিল মালিকরা কৃষকদের কাছ থেকে পাম ফল কিনছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। পাম ফল সংগ্রহের পর দুই থেকে তিনদিনের বেশি রেখে দিলে তা নষ্ট হয়ে যায়। মিলাররা পাম ফল না কেনায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ক্ষুদ্রচাষীরা। দাম কমুক আর বাড়ুক—সব ক্ষেত্রেই মিলারদের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত বলে মনে করছে সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ড মিলারদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
এদিকে মালয়েশিয়ায় ফের পাম অয়েল রফতানি কমেছে। বাজারে চলমান সংকটে প্রধান আমদানিকারক দেশগুলো তুলনামূলক কম দাম ও সহজলভ্য ভোজ্যতেলের ক্রয় বাড়িয়েছে। এ কারণে পণ্যটির চাহিদা কম। এছাড়া জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে মিলগুলো পাম অয়েল থেকে জৈব জ্বালানি উৎপাদন বাড়িয়েছে। এ বিষয়গুলো রফতানি কমে যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইন্দোনেশিয়া রফতানি নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার পর থেকে মালয়েশিয়ার রফতানি বাজারে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
পণ্যবাহী কার্গো তথ্য বলছে, ১-২৫ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়ার পাম অয়েল রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ থেকে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
মালয়েশিয়ান পাম অয়েল মিলার অ্যাসোসিয়েশন রয়টার্সকে জানায়, বর্তমান দামের কারণে এরই মধ্যে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে উৎপাদন ব্যয়ও। প্রতি ১০০ টন পাম অয়েল উৎপাদনে প্রায় দেড় লাখ রিঙ্গিত লোকসান গুনতে হচ্ছে।










