গত বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট লকডাউন ও বিধিনিষেধের কারণে বৈশ্বিক কয়লা উত্তোলন আনুমানিক ২ শতাংশ কমে যায়। এ সময় বিশ্বের প্রধান প্রধান কয়লা উত্তোলনকারী দেশগুলোয় উল্লেখযোগ্য হারে কয়লা উত্তোলন হ্রাস পায়। তবে চলতি বছর এ অবস্থার উত্তরণ ঘটবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ বছর কয়লা উত্তোলন ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে শীর্ষস্থানীয় তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণকারী সংস্থা গ্লোবালডাটা।

সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ১৩ দশমিক ১ শতাংশ, রাশিয়ায় ৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কয়লা উৎপাদন কমে যায়।    

এদিকে গত বছর তাপ কয়লার বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস পায় আনুমানিক ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ধাতব কয়লার বৈশ্বিক চাহিদায়ও ধস নামে। এটি কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশে।

তবে ধীরে ধীরে বৈশ্বিক কয়লা উত্তোলন খাত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। গ্লোবাল ডাটার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কয়লা উত্তোলন ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৮০০ কোটি টনে পৌঁছবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। 

সংস্থাটির প্রতিবেদন বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সমন্বিত বার্ষিক বৃদ্ধির হারে (সিএজিআর) কয়লা উত্তোলন ২ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এ হিসাবে ২০২৫ সালের মধ্যে কয়লা উত্তোলন বেড়ে দাঁড়াবে ৮৮০ কোটি টন। এ সময়ের মধ্যে সিএজিআর অনুযায়ী তাপ কয়লা উত্তোলন বাড়বে ২ শতাংশ। এটির উত্তোলন বেড়ে দাঁড়াবে ৭৫৪ কোটি ৯৬ লাখে। এছাড়া ধাতব কয়লার উত্তোলন প্রতি বছর সিএজিআর অনুযায়ী ৪ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৫ সালের মধ্যে এটির উত্তোলন বাড়তে পারে ১২১ কোটি ৬৯ লাখ টন পর্যন্ত।

গ্লোবালডাটার সহযোগী প্রকল্প ব্যবস্থাপক বিনিথ বাজাজ বলেন, কয়লা উত্তোলনের এ প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখবে ভারত। ২০২০ সালে দেশটির কয়লা উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ৭৭ কোটি ৭৭ লাখ টন। ২০২৫ সালের মধ্যে এটি বেড়ে ১২০ কোটি টনে পৌঁঁছবে। ভারতের পাশাপাশি চীন, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায়ও এ সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে কয়লা উত্তোলন বৃদ্ধি পাবে। এ দেশগুলো চলতি বছরে সমন্বিতভাবে কয়লা উত্তোলন বাড়াবে ৫০০ কোটি টন। ২০২৫ সালে এটি বেড়ে দাঁড়াবে ৫৪৩ কোটি টনে। 

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, রাশিয়া ৮ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তোলন বাড়াতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে এটি প্রায় ৪ শতাংশ কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।