রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বাড়িয়েছে ভারত। চলতি বছরের অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে আমদানির পরিমাণ বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। এ সময় মস্কো থেকে দৈনিক ১৬ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল কিনেছে নয়াদিল্লি। চার মাসের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ আমদানির রেকর্ড, যা গত মাসে দেশটির মোট আমদানির ৩৬ শতাংশ। ভারতের বাণিজ্য সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। খবর রয়টার্স।
চলতি বছর ভারতের শীর্ষ জ্বালানি তেল সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে রাশিয়া। মূলত ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দেয় পশ্চিমা দেশগুলো। রাশিয়া বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে এশিয়ার দেশগুলোর কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহের ঘোষণা দিলে আগ্রহী হয়ে ওঠে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল আমদানিকারক ও ব্যবহারকারী ভারত। এতদিন জ্বালানি তেলের চাহিদার সিংহভাগ মেটানোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল ছিল দেশটি। পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় এতদিন রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি আমদানি করেনি ভারত। তবে রাশিয়ার মূল্যছাড় প্রস্তাবে আগ্রহী হয়ে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি।
প্রাপ্ত তথ্য বলছে, গত মাসে ভারত দৈনিক ৪৫ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল আমদানি করেছে, যা অক্টোবরের তুলনায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কম। কিন্তু গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ১৩ শতাংশ বেশি।
রাশিয়ার পর ভারতে জ্বালানি তেল সরবরাহের দিক থেকে শীর্ষে ইরাক ও সৌদি আরব। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া থেকে বেশি পরিমাণে জ্বালানি তেল কেনায় মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমে এসেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে নভেম্বরে ভারতে জ্বালানি তেল সরবরাহের হার ছিল ৪৬ শতাংশ। আগের মাস অক্টোবরে এর পরিমাণ ছিল ৪৮ শতাংশ।
অন্যদিকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো (রাশিয়া, কাজাখস্তান ও আজারবাইজান) থেকে অক্টোবরে সরবরাহের পরিমাণ ছিল ৩৬ শতাংশ। গত মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ শতাংশে।
তথ্যমতে, ১ এপ্রিল শুরু হওয়া অর্থবছরে ভারতের বাজারে রুশ জ্বালানি তেল সরবরাহ ৭৭ শতাংশ বেড়ে দৈনিক ১৭ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে। ভারতে রাশিয়ান অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি বাড়ায় এপ্রিল-নভেম্বরে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর বাজার হিস্যা ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২২ সালের একই সময়ে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর এ হার ছিল ৬২ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।










