ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের পাইলটদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন সম্প্রতি একটি অস্থায়ী চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। ফলে মার্কিন উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটির পাইলটদের বেতন আগের তুলনায় ১৪ শতাংশ বাড়বে। পাশাপাশি নারী কর্মীরা আট সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটিও পাবেন। খবর সিএনবিসি।

চুক্তির মাধ্যমে দেশটিতে কভিড-১৯ মহামারী পরবর্তী সময়ে প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করল ইউনাইটেড এয়ারলাইনস। পাশাপাশি অন্যদের জন্য একটি উদাহরণ তৈরি করল। বিশ্বজুড়ে এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠানগুলো যখন পাইলট সংকটে ভুগছে তখন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নতুন এ চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ করা হলো। পাইলট সংকটের কারণে কিছু এয়ারলাইনস ফ্লাইটের সংখ্যা কমাতে বাধ্য হয়েছে। চুক্তিটি র্যাংক-অ্যান্ড-ফাইল পাইলটদের ভোটাভুটির মধ্যে রয়েছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে এটি সম্পন্ন হবে।

১৪ হাজারের বেশি ইউনাইটেড পাইলটের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারলাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়া চুক্তির আওতায় আগামী ১৮ মাসের মধ্যে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেতন বাড়বে। পাইলট পে’র কনসালট্যান্ট এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের সাবেক ক্যাপ্টেন কিট ডারবি বলেন, ২০২০ সালের হিসেবে প্রথম পর্যায়ে ছোট উড়োজাহাজের একজন পাইলট বছরে ৭৩ হাজার ডলার আয় করে থাকেন। অন্যদিকে একজন ওয়াইড বডি পাইলট ৩ লাখ ৩৭ হাজার ডলার পান। তবে পাইলট মোট কতগুলো ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন সেটির ভিত্তিতে বেতন-ভাতায় পরিবর্তন হতে পারে। দুই বছরের এ চুক্তিতে আট সপ্তাহের বৈতনিক মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস জানায়, প্রতিষ্ঠানের মোট পাইলটের ৭ শতাংশ নারী।

চুক্তিটি ডেল্টা এয়ারলাইনস, আমেরিকান এয়ারলাইনস, সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানকে একই পথ অনুসরণের জন্য চাপ তৈরি করেছে। মূলত কভিড-১৯ মহামারীর দুই বছর পর জীবনমানের উন্নয়নে ইউনিয়ন এ উদ্যোগ নিয়েছে। কিছু পাইলট জানান, কভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে ভ্রমণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এয়ারলাইনসগুলো কঠিন সময়সূচি তৈরি করেছে। এ সূচির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। অনেকে এর প্রতিবাদে আন্দোলন করেছেন।

গত সপ্তাহে কর্মীদের উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তায় আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রবার্ট ইসোম বলেন, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা কর্মীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বাজার প্রতিযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে ভালো বেতন দেয়া হবে। কেউই নেটওয়ার্কে অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে থাকবে না। পাইলটের পাশাপাশি অন্য এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরাও নতুন চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করছে।