পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। দেশে চলমান আইএমএফ মিশনের কর্মকর্তারা বিএসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গতকাল রাজধানী আগারগাঁওয়ে সংস্থাটির কার্যলয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক, পুঁজিবাজারের সার্বিক অবস্থা, তারল্য পরিস্থিতি, বন্ড মার্কেট নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, মো. আব্দুল হালিম ও অধ্যাপক ড. রুমানা ইসলামসহ সংস্থাটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আইএমএফের পক্ষ থেকে ডেপুটি মিশন চিফ পিয়াপেন নিকি সদশ্রীউইবনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, নতুন করে কী নীতিগত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, গ্রিন বন্ড, ইউনিভার্সাল পেনশন স্কিমসহ সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে আইএমএফের পক্ষ থেকে দেশের পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, একসময় পুঁজিবাজারে ৩ হাজার কোটি টাকার মতো লেনদেন হলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে বর্তমানে তা ৫০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে আইএমএফকে অবহিত করা হয়েছে। কমিশন প্রত্যাশা করছে, জাতীয় নির্বাচনের পর বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

পুঁজিবাজরের উন্নয়নে নতুন কি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এ বিষয়ে আইএমএফের কর্মকর্তারা জানতে চেয়েছেন। এ বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে কমোডিটি এক্সচেঞ্জসংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট এক সপ্তাহের মধ্যে জারি হয়ে যাবে। এর পর থেকেই কমিশন ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে এজন্য নিবন্ধন দেয়া শুরু করবে। কমিশনের পক্ষ থেকে আগামী বছরের মধ্যেই দেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা হবে বলে আইএমএফকে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে দেশের বন্ড মার্কেটের বিষয়ে আইএমএফের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে। এ সময় গ্রিন বন্ড, ব্লু বন্ড, অরেঞ্জ বন্ডসহ রিয়েল এস্টেট বন্ডের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি বন্ডের লেনদেন কীভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ইউনিভার্সাল পেনশন স্কিমের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ সময় আইএমএফের কর্মকর্তারা এর সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চান। এ বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে এটি অনেক সম্ভাবনাময়। বিশেষ করে এ স্কিমে যে অর্থ জমা হবে এর একটি অংশ বন্ডের মতো ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হবে। এতে দেশের বন্ড মার্কেট গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়বে বলে আইএমএফকে জানানো হয়েছে। 

আইএমএফের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভসহ সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে রিজার্ভ ও মূল্যস্ফীতির মতো ইস্যুগুলো পুঁজিবাজারকেও প্রভাবিত করছে এবং এতে পুঁজিবাজারে তারল্য কমে গেছে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে।