ইউরোপ ও সবচেয়ে বড় ভোক্তা দেশ চীনে অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদা কমেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি ধীর হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে এমন চিত্র দেখা গেছে। ফলে দাম আরো কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স।

অন্যদিকে জানুয়ারিতে এ পণ্যের দাম দাঁড়িয়েছিল সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৭৯ দশমিক ৫ ডলারে। সম্প্রতি লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে বেঞ্চমার্ক অ্যালুমিনিয়াম সিএমএএল৩-এর দাম ১৬ শতাংশ কমে ২ হাজার ২৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যানবাহন, নির্মাণকাজ ও প্যাকেজিংয়ের কাজে ব্যবহৃত ধাতুটির দাম গত ৩১ অক্টোবরের পর গত সপ্তাহে সর্বনিম্নে এসেছে। 

কনসালট্যান্সি সিআরইউর বিশ্লেষক রস স্ট্র্যাচান বলেন, ‘‌ইউরোপে সাম্প্রতিক সফর থেকে বলতে পারি চাহিদা খুবই দুর্বল, বিশেষ করে নির্মাণ খাতে। গত ছয় থেকে আট সপ্তাহে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে।’

শিল্প খাতের ক্রেতাদের বরাতে স্ট্র্যাচান জানান, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চাহিদা কমে যাবে ২০-৪০ শতাংশ। ওয়ার্ল্ড অ্যালুমিনিয়াম কনফারেন্সে তিনি এ কথা বলেন। তাছাড়া ব্যাংকিং সংকটের কারণে অর্থনৈতিক বাজারগুলো আরো বেশি ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। তাতে চমক আরো বেশি তৈরি হয়েছে বলে জানান আমালগামেটেড মেটাল ট্রেডিংয়ের হেড অব রিসার্চ ডান স্মিথ। 

তিনি বলেন, ‘‌আরো কিছু আইসবার্গ হয়তো স্বল্প সময়েই এগিয়ে আসছে। আমরা হয়তো আগামী কয়েক মাস মাথা নিচু করে থাকব। তবে বছরের শেষ নাগাদ মূল্য পরিস্থিতি আবার নিয়ন্ত্রণে আসবে।’ যদিও সে সময় অ্যালুমিনিয়ামের মূল্য কততে দাঁড়াবে তা জানাননি তিনি। 

ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর অ্যালুমিনিয়ামের বৈশ্বিক উৎপাদন ২ শতাংশ বাড়বে, কিন্তু চাহিদা বাড়বে মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে বাজারে উদ্বৃত্ত থাকবে এবং দাম কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন কনকর্ড রিসোর্সের রিসার্চ ডিরেক্টর ডানক্যান হবস।