কভিডজনিত বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এয়ারলাইনস খাত। দীর্ঘ স্থবিরতা ভেঙে চালু হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ। চলতি বছরের গ্রীষ্মে উড়োজাহাজ পরিবহন খাতের যাত্রী পরিবহন প্রাক-কভিড পর্যায়ের কাছাকাছি ফেরারও আশা করা হচ্ছে। যদিও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই এখনো মহামারীজনিত লোকসান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তবে লোকসানের পরিমাণ কমে আসছে। ২০২৩ সালে সংস্থাগুলো মুনাফায় ফিরবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। আবার জ্বালানির উচ্চমূল্য ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এ খাতের পুনরুদ্ধারে বাধা তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।
গতকাল বৈশ্বিক এয়ারলাইনস খাতের পূর্বাভাস হালনাগাদ করেছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)। বাণিজ্য জোটটি জানিয়েছে, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে এয়ারলাইনসগুলো ৯৭০ কোটি ডলার লোকসান গুনবে। যেখানে ২০২১ সালে সংস্থাগুলো ৪ হাজার ২১০ কোটি ডলার লোকসানের মুখোমুখি হয়েছিল। এর আগে চলতি বছর ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার লোকসানের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। গত বছরও বৈশ্বিক এয়ারলাইনস খাতের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছিল। এজন্য লোকসানেরও পরিমাণও পূর্বাভাস দেয়া ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলারের চেয়ে কম। এ পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ পরিবহনের চাহিদা বাড়ছে। ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। তবে চলতি বছরের লোকসানের বেশির ভাগই হবে এশীয় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর।
শতাধিক এয়ারলাইনস নেতাদের সঙ্গে একটি বার্ষিক বৈঠকে আইএটিএর মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ বলেন, আমাদের এ শিল্প ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। ২০২৩ সালে শিল্পটি মুনাফায় ফিরবে বলে আমরা আশাবাদী।
বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ ভ্রমণ পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে উত্তর আমেরিকা। চলতি বছর একমাত্র এ অঞ্চলই মুনাফার দেখা পাবে। আইএটিএর পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২২ সালে এ অঞ্চলের উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো ৮৮০ কোটি ডলার মুনাফা পাবে। তবে এভিয়েশন খাতের পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে এশিয়া। কারণ এখনো চীনের সীমান্ত বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে এবং জিরো কভিড নীতির কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারও চাপের মুখে রয়েছে। এজন্য এ অঞ্চলের এয়ারলাইনসগুলোর সম্মিলিত লোকসানের পরিমাণ ৮৯০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে।
এদিকে বিশ্বজুড়ে উচ্চ জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উড়োজাহাজ পরিবহন খাতের পুনরুদ্ধারে বাধা তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ উচ্চমূল্যস্ফীতি ও ঋণের ক্রমবর্ধমান ব্যয় গ্রীষ্মের পর উড়োজাহাজ ভ্রমণের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে। এক সাক্ষাত্কারে স্বল্পকালীন পুনরুদ্ধার হতে পারে বলেও উদ্বেগ জানিয়েছেন উইলি ওয়ালশ। তিনি বলেন, আমি মনে করি না যে এ খাত খুব শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এ মুহূর্তে কিছু অপ্রস্তুত চাহিদা তৈরি হয়েছে। তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে যে আমরা মহামারীর আগে ২০১৯ সালের পর্যায়ের অনেক নিচে রয়েছি। তবে পরিস্থিতি পুনরায় খারাপ হওয়ার আগে আমাদের এখনো অনেক সুযোগ রয়েছে। আমাদের অনেক কিছু করারও আছে।
আবার এরই মধ্যে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। কর্মী সংকটের কারণে সময়সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে এয়ারলাইনস। ফলে ফ্লাইট বিলম্ব ও স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছে সংস্থাগুলো। গ্রীষ্মের ছুটির মৌসুমে এ বিশৃঙ্খলা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনসগুলো কর্মী বাড়ানোর চেষ্টা করছে। যদিও কঠিন শ্রমবাজারের কারণে দক্ষ কর্মী পেতে সংস্থাগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মজুরি বাড়িয়েও এভিয়েশন খাতের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না।
কর্মী ঘাটতির কারণে অনেক এয়ারলাইনস গ্রীষ্মের ফ্লাইট সময়সূচিতে কাটছাঁট শুরু করেছে। গতকাল ইজিজেট দ্বিতীয়বারের মতো ফ্লাইট সময়সূচি কমিয়েছে। ব্রিটিশ স্বল্প ব্যয়ের এয়ারলাইনসটি জানিয়েছে, জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে ফ্লাইট পরিচালনা ২০১৯ সালের পর্যায়ের ৮৭ শতাংশ হবে। চতুর্থ প্রান্তিকে ফ্লাইটের সংখ্যা প্রাক-মহামারী পর্যায়ের ৯০ শতাংশে উন্নীত হবে বলেও আশা করছে সংস্থাটি। যদিও গত মাসে সংস্থাটি মহামারীপূর্ব সময়ের তুলনায় চলতি প্রান্তিকে ৯০ ও চতুর্থ প্রান্তিকে ৯৭ শতাংশ ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েছিল।










