দেশের নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন (এনবিএফআই) আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি. চলতি বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ নয় মাসে ২৬ কোটি ২০ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। চ্যালেঞ্জিং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও শক্তিশালী বিনিয়োগ আয়, কৌশলগত ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও স্থিতিশীল ঋণ প্রদানের কৌশলের ফলে এ উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এসেছে।
তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০ দশমিক ৬৪ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ০ দশমিক ৩৭ টাকা। এ সময়ে মোট সুদ আয় (গ্রস ইন্টারেস্ট ইনকাম) ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭১১ কোটি টাকা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির স্থিতিশীল পোর্টফোলিও সম্প্রসারণ এবং সঠিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন।
এ সময়ে আইপিডিসি এর বিনিয়োগ আয়েও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৩১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ কোটি ৬০ লাখ টাকায়। ট্রেজারি সম্পদ থেকে বেশি মুনাফা এবং মূলধনবাজারের অনুকূল পরিস্থিতি এ আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। এ বিনিয়োগ আয় আইপিডিসির সামগ্রিক মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে, ফলে মোট পরিচালন আয় ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৫৪ কোটি টাকা। তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) আগের প্রান্তিকের তুলনায় পরিচালন আয় আরো ১১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ কোটি টাকায়।
অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে আইপিডিসির পরিচালন ব্যয় বছরে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৮ কোটি টাকায়। এর ফলে পরিচালন মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে ৩৩ দশমিক ১ শতাশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬ কোটি টাকায়। তৃতীয় প্রান্তিকে পরিচালন মুনাফা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ২১ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৫৪ কোটি টাকা।
কর পরবর্তী নিট মুনাফা ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি টাকায়। শুধুমাত্র তৃতীয় প্রান্তিকে নিট মুনাফা ছিল ১১ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইপিডিসির ঋণ, অগ্রিম ও লিজ পোর্টফোলিও ৫ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩১৩ কোটি টাকায়, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় বেশি। একই সময়ে বিনিয়োগ পোর্টফোলিও ১৩ দশমিক ০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। গ্রাহক আমানতও ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকায়, যা আমানতকারীদের অব্যাহত আস্থা ও ব্র্যান্ডের স্থিতিশীলতার প্রতিফলন।
কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ১৬ দশমিক ৮৯ টাকা থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৭ টাকায়। এদিকে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) এর উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখিয়েছে। এক বছর আগে যেখানে এটি ছিল মাইনাস ৭ দশমিক ৯৬ টাকা, সেখানে এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৩ টাকায়। এটি কোম্পানির মূল কার্যক্রম থেকে শক্তিশালী নগদ প্রবাহ সৃষ্টির সক্ষমতাকে তুলে ধরে।
ফলাফল নিয়ে আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর রিজওয়ান দাউদ সামস বলেন, এ শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রমান করে, চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আইপিডিসি তার স্থিতিশীলতা এবং কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এবং কার্যক্রমে দক্ষতার কারণে আমরা টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং স্টেকহোল্ডাররা যাতে লাভবান হয় সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারছি।









