মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়াজুড়ে বৃহত্তর সহযোগিতার উদ্দেশ্য এক বছর আগে সম্পাদিত হয় কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা)। চুক্তিটি সম্পাদনের পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য বেড়েছে ১০ শতাংশ। খবর দ্য ন্যাশনাল।

চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির তেলবহির্ভূত বাণিজ্য প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছে। শনিবার এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৈদেশিক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী ড. থানি আল জেইউদি বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।’

আল জেইউদি তার লিংকডইন পোস্টে বলেন, ‘‌সেপা একটি যুগান্তকারী চুক্তি, যা দ্রুতবর্ধনশীল দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি চতুর্থ অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। সমান্তরালভাবে, আমরা একটি মধ্য শক্তি, একটি উদ্ভাবন কেন্দ্র, একটি বিশ্ববাজার ও বিশ্বের একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে আমাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করছি।’

ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পাদিত চুক্তিটি কার্যকর হয় গত মে মাস থেকে। সেপা সুবিধার মধ্যে রয়েছে বর্ধিত বাজারে প্রবেশ, শুল্ক ছাড়, সহজ কাস্টমস পদ্ধতি, স্পষ্ট ও স্বচ্ছ নিয়ম এবং নিয়মভিত্তিক প্রতিযোগিতা।

চুক্তির অধীনে ২০২২ সালের প্রথম নয় মাসে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ৩ হাজার ৮৬০ কোটি ডলার, যা ২০২০ সালের একই সময়ের আর্জিত বাণিজ্য বাবদ আয়ের প্রায় দ্বিগুণ। চুক্তিটি বাস্তবায়নের পর থেকে প্রথম আট মাসে বাণিজ্য বেড়েছে ৩০ শতাংশ, যা একক আর্থিক বছরে উভয় দেশকেই ৮ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যের সুযোগ করে দিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সঞ্জয় সুধীর গত মাসে বলেন, ‘‌ইউএই ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম ও ভারত ইউএইর দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। তাই ভারত আশা করে মধ্যমেয়াদে এর রফতানির ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে।’

সেপা চুক্তিটি মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্য কৌশলের একটি অংশ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির পক্ষ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, চুক্তিটির মাধ্যমে দেশটি এর জিডিপিতে ১ দশমিক ৭ শতাংশ বা ৮৯০ কোটি ডলারে যোগ করবে। এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১ দশমিক ৫ শতাংশ বা ৭৬০ কোটি ডলার রফতানি বাড়াবে।

আল জেইউদি ডিসেম্বরে বলেছিলেন, এমিরেটস ২০৩১ সালের মধ্যে সেপার অধীনে কমপক্ষে ২২টি চুক্তি শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র ক্রমেই স্থানান্তরিত হচ্ছে দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে। সেক্ষেত্রে ভারত-ইউএই একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোট তৈরি করছে, যা এশিয়ার ভবিষ্যৎকে নির্ধারণ করতে ও ভবিষ্যতের বাণিজ্য রুট স্থাপনে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়।

সরকারি তথ্যানুসারে চলতি মাসের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলবহির্ভূত বৈদেশিক বাণিজ্য রেকর্ড ৬০ হাজার ৭১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। শুক্রবার দুবাইয়ে উন্মোচিত হয় ইউএই-ভারত বিজনেস কাউন্সিল চ্যাপ্টার। এটির লক্ষ্য ব্যবসায়িক ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতার উন্নতি এবং দক্ষতা আদান-প্রদান ও বাজারগুলোয় প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা।