এশিয়ায় ক্রমেই বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা। ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সরবরাহ বাড়াচ্ছেন এশিয়ার ক্রেতারা। চলতি মাসে শীর্ষ ভোক্তা অঞ্চলটিতে পণ্যটির আমদানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে ক্রেতা দেশগুলো অস্বস্তিতে পড়লেও তা আমদানিতে বাধা সৃষ্টি করেনি। খবর রয়টার্স।
জ্বালানি তেলের বাজার পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভ অয়েল রিসার্চ জানায়, এশিয়ায় চলতি মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি দৈনিক ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত হতে পারে। গত অক্টোবরে আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ২ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল।
তথ্য বলছে, বছরের প্রথম দিকেই বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা ফিরতে শুরু করে। বিপরীতে কমে যায় পণ্যটির সরবরাহ। এ পরিস্থিতির কারণে বছরের বেশির ভাগ সময়জুড়েই এশিয়ায় আমদানি ছিল মন্থর। একই অবস্থা বিরাজ করছিল উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোয়ও। তবে শীত মৌসুমকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে আগ্রাসী প্রবণতা দেখা গেছে। এটি এশিয়াজুড়ে পরিশোধন কোম্পানিগুলোকে নভেম্বরে সরবরাহের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি ক্রয়ে উৎসাহিত করেছে। সব প্রধান আমদানিকারক দেশই পণ্যটির আমদানি বাড়াচ্ছে বলে প্রত্যাশা করছেন বিশ্লেষকরা।
চীন বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক। নভেম্বরে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি দৈনিক ১ কোটি ৪ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছতে পারে। অক্টোবরে আমদানি করা হয় মাত্র দৈনিক ৮৯ লাখ ব্যারেল, যা তিন বছরের সর্বনিম্ন আমদানি। তবে নভেম্বরের ঊর্ধ্বমুখী আমদানি অস্থায়ী নাকি এ ধারা অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিমত, সরকার কিছু বেসরকারি পরিশোধন কোম্পানির জন্য নতুন আমদানি কোটা নির্ধারণ করেছে। কোটা কার্যকর হবে চলতি বছরের শেষ দিকে। এর মাধ্যমে আমদানি আরো বাড়তে পারে। যদিও রাষ্ট্রীয় কৌশলগত মজুদ থেকে সরবরাহ বাড়ানোয় আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মত দিয়েছেন কেউ কেউ।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে ভারত এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ। চীনের মতো দেশটিও কৌশলগত মজুদ থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে। তবে এটি ভারতের আমদানিতে খুব বেশি ব্যবধান তৈরি করবে না। রেফিনিটিভের প্রাক্কলন অনুযায়ী, নভেম্বরে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বেড়ে দৈনিক ৪৪ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছতে পারে, যা এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ আমদানি। অক্টোবরে আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ৪০ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল।
এশিয়ার তৃতীয় শীর্ষ জ্বালানি তেল আমদানিকারক জাপানও যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে কৌশলগত মজুদ থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পরও নভেম্বরে দেশটির আমদানি বাড়বে। রেফিনিটিভ জানায়, নভেম্বরে জাপানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বেড়ে দৈনিক ৩০ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছতে পারে, যা গত বছরের মার্চের পর সর্বোচ্চ আমদানি। অক্টোবরে আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ২৫ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল।










