শিথিল করা হয়েছে নতুন বছরের শুরুতে আরোপিত কভিডজনিত বিধিনিষেধ। পুনরায় চালু হয়েছে কারখানাগুলো। সাংহাইয়ে লকডাউন শিথিলের পর সহজ হয়েছে সরবরাহ চেইনের প্রতিবন্ধকতাও। এমন পরিস্থিতিতে মে মাসে চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধার হয়েছে। যদিও বৈশ্বিক নানা সংকটের কারণে চলতি বছর শক্তিশালী বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকা নিয়ে শঙ্কা রয়ে গিয়েছে।
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে চীনের রফতানি দুই অংকের গতিতে বেড়েছে। পাশাপাশি গত তিন মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো আমদানি প্রসারিত হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির জন্য এটি উৎসাহজনক একটি চিহ্ন। তবু দেশটির রফতানি পূর্বাভাস এখনো ভঙ্গুর। বিশ্ব অর্থনীতির স্বাস্থ্যের পরিমাপক হিসেবে বিনিয়োগকারীরা চীনের রফতানিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। কয়েক মাস ধরে চলমান ইউক্রেনে যুদ্ধ এবং ক্রমবর্ধমান কাঁচামাল ব্যয় রফতানিতে ঝুঁকি তৈরি করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ক্রমবর্ধমান সুদের হার বিশ্বব্যাপী মন্দা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মে মাসে ৩০ হাজার ৪৩০ কোটি ডলারের রফতানি করেছে চীন। এটি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। এ হার গত জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। পাশাপাশি এটি অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশা ৮ শতাংশের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর আগে গত এপ্রিলে রফতানি বেড়েছিল মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
ডাচ আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান আইএনজির গ্রেটার চায়না অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ আইরিস প্যাংক বলেন, আমরা বিশ্বাস করি আগামীতে আর কোনো লকডাউন আরোপ করা না হলে চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধার অব্যাহত থাকবে। মে মাসের শেষ দিকে সাংহাই বন্দরের কার্যক্রম পুরোদমে চালু হলে রফতানি ও আমদানি প্রবাহ বেড়ে যায়।
সরকারি তথ্য অনুসারে, লকডাউনের কারণে সাংহাই বন্দরে দৈনিক কনটেইনার প্রবাহ এপ্রিলে ব্যাপক হারে কমে গিয়েছিল। মে মাসের শেষ দিকে এটি স্বাভাবিক স্তরের ৯৫ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়। আইরিস প্যাংক বলেন, বিশ্বজুড়ে চাহিদা যদি ২০২১ সালের মতো শক্তিশালী থাকে, তবে চীনের রফতানি আগামী তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ১৫ শতাংশ হারে বাড়বে।
গতকাল প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, এ সময়ে চীনের আমদানি ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার ৯৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত তিন মাসে প্রথমবারের মতো দেশটির আমদানি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। পরিবহনসংক্রান্ত জটিলতাগুলো সহজ এবং পুনরায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঁচামালের উচ্চচাহিদা আমদানি বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করেছে। যেখানে অর্থনীতিবিদরা ২ শতাংশ আমদানি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
ইংদা সিকিউরিটিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক জেং হুশেং বলেন, আমদানি পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেলেও তা এখনো মন্থর রয়ে গিয়েছে। এটি ধীরগতির অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে প্রতিফলিত করে।
গত মাসে চীন ৭ হাজার ৮৭৬ কোটি ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত পেয়েছে। অর্থনীতিবিদরা ৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এর আগে গত এপ্রিলে উদ্বৃত্ত ছিল ৫ হাজার ১১২ কোটি ডলার।
এদিকে অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি চীনের মন্ত্রিসভা একটি বিস্তৃত প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। যদিও বিশ্লেষকরা চলতি বছর ৫ দশমিক ৫ শতাংশ সরকারি জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন।
জিক্সিন ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক চ্যাং রান বলেন, চীনা মুদ্রার সাম্প্রতিক অবমূল্যায়ন দেশটির রফতানি এবং করপোরেট আয় বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করবে। তবে আমাদের বিশ্লেষণ অনুসারে, মে ও জুনে চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধার হবে। তবে বিশ্বজুড়ে উচ্চমূল্যস্ফীতি এবং প্রধান অর্থনীতিগুলোয় কঠোর মুদ্রানীতির কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে চীনা পণ্যের রফতানি কঠিন চাপের মুখোমুখি হবে।










