আগামী বছরগুলোয় চীনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে আসবে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্র মালিকানাধীন জ্বালানি তেল ও গ্যাস করপোরেশন সিএনপিসি। বিশ্বের শীর্ষ ব্যবহারকারী হওয়ায় বিষয়টি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারকে নিম্নমুখী চাপের মুখে ফেলতে পারে। খবর অয়েল প্রাইস ডট কম।
চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের গবেষণা ইউনিটের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোয় অটোমোবাইল শিল্পে পেট্রল-ডিজেলচালিত গাড়ির বাজার অনেকটাই দখলে নেবে বৈদ্যুতিক বাহন। ফলে এ খাতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা তলানিতে নামতে পারে। পাশাপাশি ট্রাকগুলোয় জ্বালানি তেলের বদলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ব্যবহার বৃদ্ধিও চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সিএনপিসির ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনোলজি রিসার্চের প্রেসিডেন্ট লু রুকওয়ান বলেন, ‘বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি এবং এলএনজিচালিত ট্রাকের ব্যবহার চীনে ডিজেল ও গ্যাসোলিনের চাহিদা ১০-১২ শতাংশ কমাতে পারে। মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে। তবে এ প্রবৃদ্ধির গতি থাকবে ধীর।’
সিএনপিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, চীনে ২০২৩ সাল নাগাদ জ্বালানি তেলের বার্ষিক চাহিদা দাঁড়াবে ৭৮-৮০ কোটি টনে। এর বেশির ভাগই যাবে পেট্রোকেমিক্যাল খাতে। তবে আরো দীর্ঘমেয়াদে চাহিদা ব্যাপক হারে কমার আশঙ্কা রয়েছে।
চীন বর্তমানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদার ৭০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। আমদানিনির্ভর হওয়ায় সরবরাহ সংকট কিংবা মূল্যে অস্থিরতা দেখা দিলে সেটির প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে দেশটির অর্থনীতিতে।
বিশ্লেষকরা জানান, চীনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়লে বৈশ্বিক চাহিদাও কমে যেতে পারে। ফলে জ্বালানিটির দাম নিম্নমুখী চাপে পড়বে। এমন পরিস্থিতি দেখা দিলে ওপেক প্লাস উত্তোলন আরো কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।










