তাইওয়ানে শিল্পোৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এ নিয়ে টানা ১৩তম মাস কমল দেশটির শিল্পোৎপাদন। মূল্যস্ফীতির ক্রমাগত চাপ ও বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর আর্থিক নীতির কারণে সেমিকন্ডাক্টর, ফ্ল্যাট প্যানেল, ইস্পাত থেকে শুরু করে পেট্রোকেমিক্যালস পণ্যের চাহিদা কমেছে। সম্প্রতি দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর তাইপে টাইমস।
দেশটির শিল্পোৎপাদন সূচক গত মাসে কমে দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অবদান রাখে উৎপাদন খাত। যা বার্ষিক ১৭ দশমিক ১৫ শতাংশ কমে ৮৩ দশমিক ০৩-এ পৌঁছেছে বলে মন্ত্রণালয়ের তথ্যে তুলে ধরেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে শিল্প ও কারখানাজাত পণ্যের উৎপাদন বছরে যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৯৫ ও ১৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কমেছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চলতি মাসে উৎপাদন সূচক এক মাস আগের তুলনায় ৮২ দশমিক ৯৫ থেকে ৮৬ দশমিক ৯৫ শতাংশে উন্নীতের আশা প্রকাশ করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বিভাগের উপপরিচালক হুয়াং ওয়েই-জি তাইপে টাইমসকে বলেন, ‘আমরা মাঝারি প্রবৃদ্ধি দেখছি। আশা করি, সূচকটি চতুর্থ প্রান্তিকে বার্ষিক সম্প্রসারণ নিবন্ধন করতে পারবে। মন্ত্রণালয় উৎসাহব্যঞ্জক কিছু লক্ষণও খুঁজে পেয়েছে।’
ইনভেন্টরি ইনডেক্স অনুযায়ী, স্থানীয় কারখানাজাত পণ্য উৎপাদনকারীদের বছরওয়ারি মজুদের পরিমাণ কমেছে, যা প্রায় দুই বছরে প্রথম বার্ষিক অগ্রগতি চিহ্নিত করে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা আশা করছি চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধি উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে।’
ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের মধ্যে চিপের উৎপাদন গত মাসে বার্ষিক ২২ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশের গ্রাহক চাহিদা কমার কারণে সেমিকন্ডাক্টরের বার্ষিক চাহিদা কমেছে ২৫ দশমিক ১ শতাংশ। তবে গত মাসে দেশটির সামগ্রিক উৎপাদনের ৩৭ শতাংশই সেমিকন্ডাক্টর নির্ভর ছিল। অন্যদিকে ইলেকট্রনিকস ডিভাইস যেমন টেলিভিশন, কম্পিউটার মনিটর ও স্মার্টফোনে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের উৎপাদন বার্ষিক ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।
কম্পিউটার ও অপটিক্যাল কম্পোনেন্ট উৎপাদন ১১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। এটি ঘটেছে দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ভোক্তাদের ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের চাহিদা কমায়।










