সিঙ্গাপুরে শঙ্কার মুখে আবাসন খাতের বিনিয়োগকারীরা। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তিনি দাবি করেন, চলতি বছর ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির পর ২০২৪ সালে আবাসিক ভাড়া ১০ শতাংশের মতো কমতে পারে। এছাড়া দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি হলে আবাসন খাতের দরপতন আরো বেশি হতে পারে। খবর আরব নিউজ।
বিশ্লেষকরা জানান, কভিড-১৯ মহামারীর পর নির্মাণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় দেশটিতে বাড়ি নির্মাণ বেড়েছে। ২০২৩ সালে আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। এ প্রবণতা কমতে সময় লাগবে। কারণ এটি ১০ বছর আগের বার্ষিক গড় থেকে বেশি। এছাড়া পরবর্তী বছর আরো নতুন বাড়ি গড়ে উঠবে।
অনেক বেশি বাড়ি খালি থাকায় ভাড়াটিয়ারা নতুন নতুন ইউনিট বেছে নেয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে তারা আকাশচুম্বী ভাড়ার বাড়ি ছেড়ে দেবে।
বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের একটি হয়ে উঠেছে সিঙ্গাপুর। ফলে প্রত্যাশিত পরিমাণে বাড়ি ভাড়া কমলে বর্ধিত খরচের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়াদের কিছুটা স্বস্তি মিলবে। এতদিন সিঙ্গাপুরের স্থানীয় নাগরিক ও প্রবাসীদের জন্য অর্থনৈতিক কষ্টের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দেশটিতে বাড়ি ভাড়ায় উচ্চ ব্যয়, যা এরই মধ্যে সহজ হতে শুরু করেছে। গত তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বেসরকারি হাউজিং লিজিং খরচের জন্য সরকারের সূচক মাত্র দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এটা ২০২০ সালের শেষের দিকে ভাড়া বাড়তে শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে ধীরগতির বৃদ্ধি।
দেশটিতে গত বছর লিজিং খরচ ৩০ শতাংশ বেড়েছে, যা দেড় দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। কভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে সীমান্ত খুলে দেয় সিঙ্গাপুর। এতে ধনীদের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে দেশটি।
সরকারি তথ্যমতে, সিঙ্গাপুরে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে খালি বাড়ির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৩৪১ ইউনিটে, যা ২০১৪-১৭ সালের মধ্যে গড় ১৭ হাজার ইউনিটকে ছাড়িয়ে গেছে। ওই সময় টানা চার বছর বাড়ি ভাড়া কমেছিল, যা গত শতাব্দীর শেষের পর থেকে বার্ষিক পতনের হিসেবে দীর্ঘতম সময়।
একজন বিশ্লেষক বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে বাড়ি ভাড়া কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার পরও কিছু বাড়িওয়ালা দুই বা তিন বছর আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভাড়া কিছুটা বাড়াতে পারে। সেটা পরিমাণে একেবারে অল্প।’










