কোরিয়ায় গ্রাহকের মাঝে টয়োটার জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। টয়োটা মোটর কোরিয়া সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কোরিয়ার স্থানীয় গ্রাহকের বৈচিত্র্যময় চাহিদা মেটাতে কাজ করছে টয়োটা। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছর কোরিয়ায় আটটি নতুন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি। খবর কোরিয়া হেরাল্ড।

টয়োটা কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২৩ সালে কোরিয়ার কারখানাকে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি বছর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আঞ্চলিক জ্বালানি পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে ইভির প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণীর ক্রেতার চাহিদা পূরণে কাজ করবে টয়োটা।

এ প্রসঙ্গে সিউলে টয়োটার মাল্টিকালচার কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত টয়োটা মোটর কোরিয়ার সিইও কোনিয়ামা মানাবু বলেন, ‘‌ কোরিয়ায় টয়োটার হাইব্রিড মডেলসহ স্বয়ংক্রিয় গাড়ি বিক্রির হার গত বছর লেক্সাসের ক্ষেত্রে ৯৮ শতাংশ ও টয়োটার ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে। আমরা এই পরিমাণ বিক্রির জন্য অত্যন্ত গর্বিত। কেননা এ সময় টয়োটার অন্য সব বাজারের মধ্যে কোরিয়া শীর্ষে ছিল।’ কোনিয়ামা ১৯৯০ সালে টয়োটার গবেষণা এবং বিদেশী বিক্রয় ও বিপণন শাখায় যোগ দেন। কয়েক দশকের অভিজ্ঞতার পর জানুয়ারিতে কোরিয়ার অফিসে নেতৃত্বের অবস্থানে বসেন।

কোরিয়ার বাজার নতুন উদ্ভাবনের ব্যাপারে সংবেদনশীল। কোনিয়ামা বলেন, ‘‌আমরা এমন পাওয়ার ট্রেন ও অটোমেশন চালু করব, যা গ্রাহকদের বিভিন্ন চাহিদা এবং জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। কোরিয়ার গ্রাহকদের সমর্থন ও আস্থা আমাদের জন্য বড় সম্পদ। আমরা যেভাবে অটোমেশনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তার জন্য কোরিয়ার ক্রেতারা সহায়ক হবে।’

টয়োটা মোটর কোরিয়ার প্রধান স্বীকার করেছেন, সাপ্লাই চেইনে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, স্বল্পমেয়াদে কোরিয়ান গ্রাহকের জন্য যানবাহন সরবরাহ ত্বরান্বিত করা হবে। তিনি বলেন, ‘‌আমি টয়োটা মোটর কোরিয়ার সিইও। একই সময়ে বৈশ্বিক সদর দপ্তরের একজন কর্মচারী। কোরিয়ার বাজারে উচ্চ রেটিং পাওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা নিয়ে আমি সদর দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করব।’

টয়োটার ইভি মার্কেটে প্রবেশের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনিয়ামা জানিয়েছেন, টয়োটা বিশ্বের বিরল গাড়ি নির্মাতাদের মধ্যে একটি, যারা নিজেদের গাড়ির ব্যাটারি তৈরি করে। তিনি বলেন, ‘‌টয়োটা ব্যাটারি ও গাড়ি উভয়ের উন্নয়ন অব্যাহত রাখবে। এমন ইভি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দিতে পারে। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সোর্সের মাধ্যমে হাইড্রোজেন চালিত ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা করছে প্রতিষ্ঠানটি।’