আগামী বছরের জানুয়ারিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাসের পরিমাণ দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনছে অর্গানাইজেশন ফর দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক) ও এর মিত্র দেশগুলো। ওপেক প্লাস নামে পরিচিত এ জোটের ১২তম মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর সিনহুয়া ও রয়টার্স।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সৌদি আরব ও রাশিয়াসহ ওপেক প্লাসের দেশগুলো সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন গড়ে ৭৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়ে আনছে। ২০২১ সালেও এ প্রতিশ্রুতি এগিয়ে নেবে ওপেক প্লাস। তবে জানুয়ারিতে জোটভুক্ত দেশগুলোয় জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন হ্রাসের পরিমাণ কমে আসবে। এ সময় ওপেক প্লাসের দেশগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সম্মিলিত উত্তোলন হ্রাসের পরিমাণ দৈনিক গড়ে ৭২ লাখ ব্যারেলে নেমে আসবে, যা জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদার ৭ শতাংশ। কাঙ্ক্ষিত মূল্যবৃদ্ধি ও বাজার ভারসাম্য ফেরানোর স্বার্থে জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাসে বিদ্যমান চুক্তিটির মেয়াদ মার্চের শেষ অবধি বলবৎ থাকবে বলে আশা করছে জোটটি।

ওপেকভুক্ত দেশগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন নিয়ে একটি জরিপভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে, টানা পাঁচ মাস ধরে জোটভুক্ত দেশগুলোয় জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন বাড়ছে। এ ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের নভেম্বরে জোটভুক্ত ১৩ দেশ সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ৫৩ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে। আগের মাসের তুলনায় এ সময় এসব দেশে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় উত্তোলন বেড়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল।

এ বিষয়ে কমার্জব্যাংকের জ্বালানি বিশ্লেষক ইউজেন ওয়েইনবার্গ বলেন, জ্বালানি তেলের বাজারে ভারসাম্য ফেরাতে হলে চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহ সীমিত করার বিকল্প নেই। এজন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাস চুক্তির মেয়াদ আরো বাড়ানো। আশা করছি, ওপেক প্লাস এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সক্ষম হবে।

এদিকে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দাঁড়িয়েছে ৪৬ ডলার ২৬ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৪৯ ডলার ৩৭ সেন্টে উন্নীত হয়েছে।