গতকাল আয়োজিত এ সমাবেশে কর্মীরা উচ্চতর বোনাস ও বেতন বাড়ানোর দাবি জানান। দাবি না মানলে তারা বড় ধরনের ধর্মঘটের হুমকিও দেন। খবর রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে সম্প্রতি বড় মুনাফা দেখছে স্যামসাংয়ের মেমোরি চিপ ব্যবসা। ইউনিয়ন নেতাদের দাবি, কোম্পানি বিশাল মুনাফা করলেও কর্মীদের ন্যায্য পাওনা দিচ্ছে না।

প্রায় ৪০ হাজার কর্মী নিয়ে বিক্ষোভটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন স্যামসাংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ‘এসকে হাইনিক্স’ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক আয়ের রেকর্ড গড়েছে।

স্যামসাংয়ের প্রায় ৭৪ হাজার কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে আগামী ২১ মে থেকে ১৮ দিনের কর্মবিরতি শুরু হবে। ধর্মঘট শুরু হলে কোম্পানির প্রতিদিন ১ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ৬৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার) করে ক্ষতি হতে পারে। ইউনিয়ন নেতা চোই সেউং-হো বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ লড়াই থামবে না।’

উল্লেখ্য, নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৫৫ শতাংশ বেড়েছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

প্রাথমিক আর্থিক প্রতিবেদনে সম্প্রতি স্যামসাং জানায়, বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানির পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ৩ হাজার ৮৬০ কোটি ডলার)।

গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ মুনাফার পরিমাণ ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ওন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় কেবল মুনাফাই নয়, বরং আয়ের ক্ষেত্রেও বড় প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির মোট আয় ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১৩৩ ট্রিলিয়ন ওনে দাঁড়িয়েছে।