বৈশ্বিক অর্থনীতির মতো তুলার বাজারেও ২০২০ ছিল অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার বছর। তুলার বাজারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছিল করোনা মহামারী। ২০২১ সালে তুলার বাজার কোন দিকে যাবে, এ নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ন্যাশনাল কটন কাউন্সিলের (এনসিসি) অর্থনীতিবিদরা।
এনসিসির বার্ষিক এক জরিপে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, চলতি মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ১৫ লাখ একর জমিতে তুলা চাষ হবে, যা ২০২০ সালের চেয়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ কম। বিভিন্ন শস্যের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দামের কারণে কম জমিতে এবার তুলা চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য দেশের তুলা উৎপাদন বৃদ্ধিও এতে ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৯৪ লাখ একরের কটন বেল্টের ১৮ দশমিক ১ শতাংশ জমিতে এবার তুলা চাষ হচ্ছে না। প্রতি একরে যদি ৮৫৫ পাউন্ড উৎপাদন হয় তাহলে ১ কোটি ৬৭ লাখ বেল (১ বেল = ১৭০ কেজি) তুলা উৎপাদন হতে পারে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তুলাবীজ উৎপাদন হতে পারে ৫২ লাখ টন।
চলতি মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় তুলাকলে ২৮ লাখ বেল তুলা ব্যবহূত হতে পারে। করোনা নিয়ন্ত্রণে নেয়া লকডাউনে বন্ধ রাখার কারণে ২০২০ সালে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তুলাকলগুলো। তুলা শিল্পের সার্বিক দিক বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলাকলগুলো সক্রিয় হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে এনসিসি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের তুলার সবচেয়ে বড় গ্রাহক এ তুলাকলগুলোই।
মহামারীর ধাক্কা থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর কারণে তুলার বৈশ্বিক বাজার চলতি বছরে পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে চাঙ্গা থাকতে পারে। বিক্রি ও চালানের ওপর ভিত্তি করে দেখা গেছে, ২০২০ বিপণন বর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রফতানি ১ কোটি ৫৮ লাখ বেলে দাঁড়াতে পারে। ২০১৯ মৌসুমের উদ্বৃত্ত বিক্রি এবং চীন থেকে বড় আকারের তুলা আমদানিতে গত বছরটি তুলাচাষীদের জন্য বেশ চাঙ্গা বছরই ছিল। ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নাগাদ ১ কোটি ৪১ লাখ বেল তুলার ক্রয়াদেশ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৭৮ লাখ বেল তুলা ক্রেতাদের কাছে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এনসিসি এক সংবাদ বিবৃতিতে জানায়, ২০১০ মৌসুমের পর চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ পরিমাণ তুলা রফতানি করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
ব্রাজিল থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হলেও ফেজ ওয়ান বাণিজ্য চুক্তির ফলে ২০২০ সালে চীনের বাজারে বাজার শেয়ার সম্প্রসারণ করতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কে তুলা উৎপাদন কম হওয়ায় অন্যান্য বাজারেও ২০২০ শস্য বছরে ভালো অবস্থান করে নিতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা। ২০২১ শস্য বছরে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রফতানি ১ কোটি ৫৪ লাখ বেলে দাঁড়াতে পারে। অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য তুলা উৎপাদক দেশগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা।
২০২১ সালে বৈশ্বিক তুলা উৎপাদন ১৫ লাখ বেল বেড়ে ১১ কোটি ৫৬ লাখ বেলে দাঁড়াতে পারে এবং তুলাকলগুলোর ব্যবহার বেড়ে দাঁড়াবে ১২ কোটি ৯ লাখ বেল।










