জাপানে বেসরকারি খাতে যন্ত্রাংশের ক্রয়াদেশ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এপ্রিলে আগের মাসের তুলনায় ক্রয়াদেশ বেড়েছে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল এবং মূলধন বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় টানা দ্বিতীয় মাসের মতো দেশটির যন্ত্রাংশের ক্রয়াদেশ বেড়েছে। খবর কিয়োদো নিউজ।

গতকাল জাপানের মন্ত্রিপরিষদ অফিস জানিয়েছে, বাজারে অস্থিরতার মধ্যে থাকা জাহাজ ও বিদ্যুৎ খাত বাদ দিয়ে মে মাসে যন্ত্রাংশের ক্রয়াদেশ মোট ৯৬ হাজার ৩০০ কোটি ইয়েনে (৭১০ কোটি ডলার) পৌঁছেছে। এর আগে মার্চে এ ক্রয়াদেশ বেড়েছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। মন্ত্রিপরিষদ অফিস মূল্যায়নে জানিয়েছে, করপোরেট মূলধন ব্যয়ের একটি শীর্ষ সূচক হিসেবে দেখা যন্ত্রাংশের ক্রয়াদেশ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত মার্চে অফিসটি বলেছিল, ক্রয়াদেশ পুনরুদ্ধারে স্থবিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাসে যন্ত্রাংশের ক্রয়াদেশ গড়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। বেসরকারি খাতের যন্ত্রাংশের ক্রয়াদেশ শক্তিশালীভাবে পুনরুদ্ধার হয়েছে। কারণ কভিডজনিত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে অনুকূল করপোরেট পারফরম্যান্স সংস্থাগুলোকে মূলধন ব্যয়ে উৎসাহিত করেছে।

এ সময়ে উৎপাদন শিল্প থেকে ক্রয়াদেশ ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৫০ হাজার ১৪০ কোটি ইয়েনে পৌঁছেছে। এক্ষেত্রে অটোমোবাইল শিল্প এ ব্যয়ে নেতৃত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি জাহাজ ও বিদ্যুৎ খাত ব্যতীত অ-উৎপাদনশীল শিল্পের যন্ত্রাংশের ক্রয়াদেশ ৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪৬ হাজার ৮৮০ কোটি ইয়েনে পৌঁছেছে। এক্ষেত্রে পরিবহন ও ডাক পরিষেবার অবদান উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া ভবিষ্যতে রফতানির সূচক বিদেশ থেকে আসা যন্ত্রাংশের ক্রয়াদেশ ১ লাখ ৬৬ হাজার কোটি ইয়েনে পৌঁছেছে। এটি আগের মাসের তুলনায় ৫২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ডিভাইস ও জাহাজের জোরালো চাহিদার কারণে এ ক্রয়াদেশ ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ অফিস অনুসারে, জাহাজ ও বিদ্যুৎ খাতসহ জাপানে মোট ক্রয়াদেশ ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৩ লাখ ৩৭ হাজার কোটি ইয়েনে পৌঁছেছে। ২০০৫ সালের তুলনামূলক তথ্য পাওয়ার পর থেকে এটি মূল্যের হিসাবে সবচেয়ে বড়।