সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে গত অর্থবছরে ২০ লাখ ৭ হাজার ৯৩৪ টন পাথর আমদানি হয়েছে। এসব পাথরের আমদানিমূল্য ২৩৪ কোটি ৫৩ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫ টাকা, এ থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ১২৭ কোটি ৬২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা ও আমদানি খরচ কম হওয়ায় কয়েক বছর ধরে ভোমরা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। বিশেষ করে পাথর আমদানিতে। আবার নির্মাণপণ্যটি থেকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে বন্দরের। পাথর আমদানিতে মূল্যের বিপরীতে সরকার প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব পায় বলে জানান ভোমরা শুল্ক স্টেশনের জ্যেষ্ঠ রাজস্ব কর্মকর্তা আকবার আলী।

ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সপ্তাহে ২৫-৩০ ট্রাক পাথর আমদানি করে মেসার্স আঁখি এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আবদুল গফুর জানান, তার প্রতিষ্ঠান আমদানীকৃত পাথর পটুয়াখালী, বরগুনা, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে। নির্মাণকাজে ব্যবহূত এসব পাথর প্রতি টন বিক্রি করেন ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বন্দরের আরেক পাথর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রোহিত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রামকৃঞ্চ চক্রবর্তী জানান, বর্ষা মৌসুমে আমদানি কিছুটা কম হয়। শুষ্ক মৌসুমে চাহিদা বেশি থাকায় আমদানি বাড়ে। তার প্রতিষ্ঠান মাসে ১২০-১৩০ ট্রাক পাথর আমদানি করে। আমদানীকৃত এসব পাথর দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন তারা।

ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বৃদ্ধির বিষয়ে বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম বণিক বার্তাকে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভোমরা বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি করে থাকেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন খরচও সাশ্রয়ী হওয়ায় এ বন্দর দিয়ে অন্যসব পণ্যের তুলনায় পাথর আমদানি সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন বণিক বার্তাকে বলেন, পাথর আমদানি থেকে সরকারের রাজস্ব যথেষ্ট ভালো আসে। ভোমরা বন্দরে বছরের মোট রাজস্বের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অর্জিত হয় আমদানীকৃত পাথর থেকে।