২০২১-২২ অর্থবছর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে রফতানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে আয় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় বন্দর দিয়ে অন্তত আড়াই লাখ টনের বেশি দেশীয় পণ্য রফতানি হয়েছে।
বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, এ বন্দর দিয়ে যেসব পণ্য রফতানি হয় তার মধ্যে তাঁতের শাড়ি, গার্মেন্টস বর্জ্য, রাইজ ব্র্যান অয়েল, মধু, ক্লিনিক ক্লথ, পাটের সুতা, পাটের চট, নারকেল শলা, প্রাণ জুস, লিচু ড্রিংকস, প্রাণ চানাচুর ও চিপস অন্যতম।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গিয়েছে, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ২ লাখ ৬২ হাজার ৩১৯ দশমিক ১৪ টন পণ্য রফতানি হয়। যার রফতানি মূল্য ২ হাজার ৭৩৮ কোটি ৫০ লাখ ২৬ হাজার ৭০১ টাকা, যা ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় অন্তত ৩০ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রফতানি হয় ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯১ দশমিক ৮৯ টন, যার মূল্য ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি ১৩ লাখ ৪ হাজার ৮৩২ টাকা।
ভোমরা স্থলবন্দরের রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাজ ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন মন্টু জানান, বারো মাসই বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী রফতানি করে তার প্রতিষ্ঠান। রফতানীকৃত এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে প্রাণ গ্রুপের জুস, লিচু ড্রিংকস, প্রাণ চানাচুর ও চিপস।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাবে দীর্ঘ সময় ধরেই রফতানি চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। তবে বর্তমানে এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে তার প্রতিষ্ঠান। বিদায়ী অর্থবছর তার প্রতিষ্ঠানের রফতানি ৩৫-৪০ শতাংশ বেড়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
ভোমরা স্থলবন্দরের অন্যতম পণ্য আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার জানান, করোনা-পরবর্তী বিদায়ী অর্থবছর পণ্য রফতানির পরিমাণ বেড়েছে। এর আগের দুই বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ রফতানি বেড়েছে তার প্রতিষ্ঠানের। তার রফতানীকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে গার্মেন্টস বর্জ্য, সুতার বর্জ্য ও ব্র্যান রাইস অয়েল। তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে ৫৫-৬০ হাজার টন দেশীয় পণ্য রফতানি করছে।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে বন্দরের রফতানি আয় বেড়েছে। চলতি অর্থবছর আয় আরো বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।









