চীনের ঋণমান কমানোর পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডি’স। এজন্য বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশটিতে মহামারী-পরবর্তী সময়ের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা, প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি এবং আবাসন খাতে চলমান সংকটকে দায়ী করছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর নিক্কেই এশিয়া।
আগে এক মাসেরও কম সময় আগে চীনের ঋণমান স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচক অবস্থানে নামিয়ে এনেছিল মুডি’স। মুডি’Gসর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঋণ জর্জরিত স্থানীয় সরকারগুলোকে বেইজিংয়ের আরো বেশি সহযোগিতা করা প্রয়োজন। দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঝুঁকি তৈরি হয়েছে প্রবৃদ্ধি কমে আসার। পাশাপাশি আবাসন খাতের অস্থিতিশীলতা সেখানে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে।
চীনের অর্থমন্ত্রী মুডি’Gসর বক্তব্যকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। অর্থমন্ত্রীর দাবি, দেশটির অর্থনীতি শিগগিরই পুনরুদ্ধার ঘটবে এবং আবাসন খাতের ঝুঁকি দূর হবে। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে যে উদ্বেগের দেখা দিয়েছে, তা সহজেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য। মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে মুডি’Gসর উদ্বেগ অপ্রয়োজনীয়।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছে ইউয়ানকে স্থিতিশীল রাখার জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত আলিবাবা ও জেডি ডট কমের মতো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে যথাক্রমে ১ ও ২ শতাংশ। হংকংভিত্তিক মিজুহো ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কেন চিউং বলেন, ‘বাজার এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ও আবাসন খাতের সংকট নিয়ে সতর্ক।’
আরেক আন্তর্জাতিক রেটিংদাতা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালও চীনের আবাসন খাতের অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, এ অনিশ্চয়তা চলতে থাকলে আগামী বছর প্রবৃদ্ধির হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে আসতে পারে। তবে এসঅ্যান্ডপি এবং আরেক রেটিংদাতা প্রতিষ্ঠান ফিচ চীনের রেটিং এ প্লাস অবস্থানে স্থির রেখেছে, যা মুডি’Gসর এ ওয়ানের সমান।
এসঅ্যান্ডপি ও ফিচ উভয়ই চীনের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রেখেছে। দুয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীনে সেন্ট্রাল ইকোনমিক ওয়ার্ক সম্মেলন হওয়ার কথা। সেখানে সরকারি উপদেষ্টার পক্ষ থেকে আরো স্থিতিশীল নীতিমালা গ্রহণের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মুডি’Gসর পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৪ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে স্থির থাকবে। পাশাপাশি ২০২৬-৩০ সালের মধ্যে গড় প্রবৃদ্ধি থাকবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
মহামারীর পর থেকেই চীন তার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার গতি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। আবাসন খাতের ক্ষত, স্থানীয় সরকারের ঋণ, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির মন্থরতা, ভূরাজনৈতিক টানাপড়েন এবং গতি কমে আসার মধ্য দিয়ে এর প্রভাব তীব্র হয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হলেও প্রত্যাশিত গতি পায়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার অপ্রতুলতার কথা। গত কয়েক দশকে অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধির গতি থাকার পর বাস্তবিক অর্থেই চীনের অর্থনীতি মন্থর হয়ে পড়েছে। এ থেকে উত্তরণে দেশটিকে অর্থনৈতিক মডেলে পরিবর্তন আনতে হবে।










