সিঙ্গাপুরে টানা তৃতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতির গতি নিম্নমুখী। খাদ্যের দামে সামান্য বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যয় কমার ফলে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি কমেছে। প্রকৃত মূল্যস্ফীতিতে বেসরকারি পরিবহন ও আবাসন ব্যয় বাদ দিয়ে সিঙ্গাপুরের পরিবারের ব্যয়কে তুলে ধরা হয়েছে। বছরওয়ারি প্রকৃত মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। জুন থেকে প্রায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। খবর স্ট্রেইটস টাইমস।
সামগ্রিক ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) প্রতিনিধিত্বকারী শিরোনাম মূল্যস্ফীতিও জুনে ৪ দশমিক ৫ থেকে কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। এটি কমেছে বেসরকারি পরিবহন মূল্যস্ফীতি আংশিক কমার কারণে। রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের সঙ্গে প্রকৃত ও শিরোনাম মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান উভয়ই সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখা গেছে।
ডিবিএস ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ চুয়া হান তেং জানান, সিঙ্গাপুরের প্রকৃত মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শীর্ষে পৌঁছানোর পর ধারাবাহিক কমছে। তিনি আরো জানান, প্রাক-মহামারীর তুলনায় গড় মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলেও মূল্য বৃদ্ধির চাপ কমছে। মূল্যস্ফীতি গত বছরের তুলনায় কম ঊর্ধ্বমুখী, যা ভোক্তাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি তৈরি করেছে।
সিঙ্গাপুরের মুদ্রা কর্তৃপক্ষ (এমএএস) এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (এমটিআই) জানায়, আবাসন খাতে ব্যয় কমার প্রাথমিক কারণ হচ্ছে জুলাইয়ে হাউজিং বোর্ডের ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের জন্য সার্ভিস ও সংরক্ষণ চার্জের ছাড় দেয়া হয়েছিল। এদিকে জুলাইয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যস্ফীতি শুল্ক কমানোর কারণে ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। বেসরকারি পরিবহনে মূল্যস্ফীতি জুনের ৫ দশমিক ৮ থেকে জুলাইয়ে ৪ দশমিক ৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। খাদ্য ও খুচরা মূল্যস্ফীতিও যথাক্রমে ৫ দশমিক ৩ ও ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। সার্ভিস মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। আবাসন মূল্যস্ফীতি গত বছর তুলনায় সার্ভিস ও সংরক্ষণ চার্জ বাড়ায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
মনিটারি অথরিটি অব সিঙ্গাপুর (এমএএস) ও মিনিস্ট্রি অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমটিআই) ২০২৩ সালের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির জন্য তাদের পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে বজায় রেখেছে, যখন প্রকৃত মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ছিল। অর্থনীতিবিদরা আশা করছেন বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মূল্যস্ফীতির গতি আরো কমবে।
ওসিবিসির মিস লিং জানান, তৃতীয় প্রান্তিকে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ও চতুর্থ প্রান্তিকে ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হবে। অন্যদিকে প্রকৃত সিপিআই তৃতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৪ ও চতুর্থ প্রান্তিকে ২ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।










