জাপানি খাবার সুশির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে থাইল্যান্ডে। এর সঙ্গে তীব্র হচ্ছে বাজার দখলের প্রতিযোগিতা। ক্রেতা আকর্ষণে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে মরিয়া হয়ে লড়ছে জাপানি ব্র্যান্ড সুশিরো ও হামা সুশি।
বিদেশী খাবারের প্রতি কৌতূহলের পাশাপাশি থাইল্যান্ড থেকে জাপানে ভ্রমণ বাড়ার সুবিধা পাচ্ছে সুশি। সে সুযোগ লুফে নিয়েছে জাপানি গ্রুপ জেনশো হোল্ডিংস। তাদের ব্র্যান্ড হামা সুশি গত মাসে ব্যাংককের সেন্ট্রাল পিংকলাও মলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম শাখা খুলেছে।
উদ্বোধনের দিন রেস্তোরাঁর সামনে জমেছিল দীর্ঘ লাইন। এক পর্যায়ে ৯০০-এর বেশি গ্রাহক টেবিল খালি পেতে অপেক্ষায় ছিলেন। ১২৫ আসনের এ রেস্তোরাঁয় ৮০টির বেশি স্বাদের সুশি পরিবেশন করা হয়। প্রারম্ভিক দাম ৪০ বাথ বা ১ ডলার ২৫ সেন্ট।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেনশোর স্থানীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তমোয়োশি নিশিজিমা বলেন, ‘আমরা চাই থাই জনগণের পছন্দের সুশি রেস্তোরাঁগুলোর একটি হতে। জানুয়ারিতে ব্যাংককের কাছে দ্বিতীয় শাখা খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।’
থাইল্যান্ডে জাপানি সুশি চেইনের সম্প্রসারণ শুরু হয় ২০২১ সালে। সে বছর সুশিরোর প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠান ফুড অ্যান্ড লাইফ কোম্পানিজ দেশে প্রথম শাখা খোলে। প্রতিষ্ঠানটি এখন দ্রুত বিদেশে শাখা বাড়াচ্ছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে সুশিরোর বিদেশী ব্যবসা থেকে আয় পৌঁছে ১৩ হাজার ১৪০ কোটি ইয়েন বা ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ, আগের বছরের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি। বিদেশে ২৩৯টি আউটলেট থেকে কোম্পানির পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০ কোটি ইয়েনে। মুনাফার হার ১৫ শতাংশ, যা জাপানি ব্যবসার ১০ শতাংশ হারের চেয়েও বেশি।
প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা জানান, থাইল্যান্ড কোম্পানিটির জন্য সবচেয়ে লাভজনক বাজার। দেশটিতে এখন ৪১টি আউটলেট রয়েছে।
সুশিরোর দাম তুলনামূলক বেশি। এখানে বিভিন্ন প্লেটের মূল্য ৩০-১০০ বাত। জনপ্রিয় টুনা ও স্যামন সুশির দাম ৪০ বাত। জাপানে একই ধরনের সুশির সর্বোচ্চ দাম প্রায় ১ ডলার।
সুশিরোর দাবি, উপকরণ সংগ্রহের উন্নত ব্যবস্থা চেইনটিকে তাজা ও মানসম্মত সুশি বিক্রির সুবিধা দেয়। থাই শাখাগুলোয় কনভেয়ার বেল্ট, টাচস্ক্রিন অর্ডার ও ক্যাশলেস পেমেন্ট ব্যবস্থাও রয়েছে। এতে গ্রাহকরা বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতা পান এবং পরিচালন ব্যয়ও কম হয়।
সুশি পরিবেশনে থাইল্যান্ডের স্থানীয় কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণও বাড়ছে। থাই কনগ্লোমারেট সিপি গ্রুপ জুলাই থেকে তাদের পরিচালিত ‘সেভেন-ইলেভেন’ স্টোরে সুশি বিক্রি শুরু করেছে। জাপানের মাছ বিক্রেতা উওরিকির সহযোগিতায় কোম্পানিটি টোকিওর তোয়োসু বাজারসহ বিভিন্ন উৎস থেকে মাছ সংগ্রহ করে। সিপি গ্রুপ বছরের শেষ নাগাদ ৫৯টি আউটলেটে এ পরিষেবা চালু করতে চাইছে। এটি বর্তমান সংখ্যার তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ১০ বছরে কোল্ড-চেইন ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। কোল্ড-চেইন হলো মাছসহ নষ্ট হওয়ার মতো খাদ্যপণ্যকে ঠাণ্ডা পরিবেশে সংরক্ষণ ও পরিবহনের পুরো ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার কারণে থাইল্যান্ডে সুশির মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। এখন দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো স্যামন সুশি। থাই ভোক্তারা কম গন্ধযুক্ত মাছ বেশি পছন্দ করেন। আবার চিজ বা মেয়োনিজ দেয়া তুলনামূলক শক্ত স্বাদের সুশিও জনপ্রিয় হচ্ছে।
ইউরোমনিটরের গবেষণা ব্যবস্থাপক হিরোমি ইয়ামাগুচি মনে করেন, থাইল্যান্ডের সুশির বাজারে জাপানি ব্র্যান্ডগুলো দ্রুত সম্প্রসারণ করায় আগামী দিনে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হবে।
নিক্কেই এশিয়া অবলম্বনে










