সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিপত্তিতে পড়েছে
চীনের অর্থনীতি। এর মধ্যে লোহিত সাগরে চলমান উত্তেজনায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশটির রফতানি
নির্ভর সংস্থাগুলো। খবর রয়টার্স।
প্রতিবেদনে চীনা ব্যবসায়ী হানকে উদ্ধৃত
করে বলা হয়, জাহাজ চলাচলের রুটে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর ক্রম বর্ধমান হামলার কারণে
ডিসেম্বরে ইউরোপে শিপিং খরচ তিন হাজার ডলার থেকে বেড়ে সাত হাজার ডলার হয়েছে। যার প্রভাব
পড়েছে সামগ্রিক বাণিজ্য খাতে।
গাড়ি রফতানিকারক এ ব্যবসায়ী আরো বলেন,
লোহিত সাগরে লাগাতার সহিংসতা আমাদের কম মুনাফার সম্ভাবনাকেও প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে।
সেই সঙ্গে বিমা প্রিমিয়ামের বৃদ্ধি ব্যবসার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্বের ব্যস্ততম শিপিং রুটে হামলাজনিত
প্রতিক্রিয়া চীনের রফতানিনির্ভর অর্থনীতির দুর্বলতাকেই প্রকাশ করছে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক
বিডিআই ফার্নিচারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হচ্ছে, চলমান ভূ-রাজৈনৈতিক দুশ্চিন্তা
ও ব্যবসায়িক ক্ষতি কমাতে চীনের পরিবর্তে এখন থেকে তুরস্ক ও ভিয়েতনামের সঙ্গে বাণিজ্যিক
তৎপরতা বাড়ানোর কথা ভাবছে তারা।
অবশ্য চীনা পণ্য রফতানিকারক আইসি ট্রেডের
প্রতিষ্ঠাতা মার্কো ক্যাসেলি বলেন, যদি এ অবস্থা স্থায়ী হয় তাহলে পুরো প্রক্রিয়াটিই
ঢেলে সাজাতে হবে। এ ক্ষেত্রে চীনও ইউরোপের পরিবর্তে ভারতে রফতানি বাড়ানোর কথা ভাববে।
তবে লোহিত সাগরে জাহাজ হামলার কারণে
সৃষ্ট অস্থিরতায় চীনের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।
কিডক্রাফটের সাপ্লাই চেইন ও অপারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক সাগান জানিয়েছেন, অনেক
ইউরোপীয় গ্রাহক তাদের পণ্য পাঠানোর পরিবর্তে ধরে রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। সরবরাহকারীরা
পা্ওনা অর্থ নিয়েও উদ্বিগ্ন। ছোট ও টাইট-মার্জিনে সরবরাহকারীদের ওপর এ ঘটনার প্রভাব
নিয়ে নির্মিত বড় উৎপাদকরাও ।
লোহিত সাগরে আক্রমণ এড়াতে বাণিজ্যিক
জাহাজগুলো আফ্রিকার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌছাচ্ছে। এ কারণে বিশ্বব্যাপী
কনটেইনার জাহাজের পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। একইসঙ্গে পণ্যগুলো তাদের গন্তব্যে না
পৌঁছানো পর্যন্ত অর্থ পাচ্ছে না কারখানাগুলো। নিশ্চিত করা যাচ্ছে না কর্মচারীদের মজুরি।
এমনই এক জটিল পরিস্থিতির মাঝে সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন চীনের ব্যবসায়ীরা।










