ইসরায়েলি বোমার আঘাতে ফিলিস্তিনের গাজার অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি অর্থনীতিবিদরা। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
প্রকৃতপক্ষে গাজায় কর্মসংস্থান একেবারে কম। বেশির ভাগ মানুষ সরকারের কাছ থেকে মজুরি ভাতা পেতেন। পাবলিক সেক্টরের একটি ছোট অংশে তারা কাজ করতেন। অবরুদ্ধ ২৪ লাখ মানুষের ছিটমহলের বেশির ভাগ বেকারি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে পুরো সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুপারমার্কেটগুলোয় পণ্যদ্রব্যের মজুদ ফুরিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে একটি অর্থনীতি কীভাবে সচল থাকতে পারে এমন প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা।
গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ভারী বোমা বর্ষণ চালাচ্ছে ইসরায়েল। গাজা উপত্যকার অফিশিয়াল তথ্যানুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ১৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকে গাজার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মারাত্মক দুর্বল ছিল। এর মধ্যে সর্বশেষ সংঘাত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরো খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনি অর্থনীতি তার সম্ভাবনার চেয়ে অনেক কম পরিমাণে এগিয়ে যাবে। ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাস করা হয়েছিল।
বিশ্বব্যাংক জানায়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের কারণে মাথাপিছু আয় স্থবির হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা জীবনযাত্রার মানকে হ্রাস করবে।
প্যালেস্টাইন ইকোনমিক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী রাজা খালিদি জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত সহিংসতা অব্যাহত থাকবে নিশ্চিতভাবে, অর্থনৈতিক ধ্বংস অব্যাহত থাকবে। এ চলমান যুদ্ধ গাজা উপত্যকার ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস করছে। এটি গাজার অর্থনীতিকে সরাসরি ক্ষতি করছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ হামলা গাজার উৎপাদনক্ষমতা ধ্বংস করছে। যার ফলে ভবিষ্যতে পণ্য ও সেবা উৎপাদনের সক্ষমতাও হারাচ্ছে গাজা।
গত মাসে প্রকাশিত প্যালেস্টাইন ইকোনমিক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত যুদ্ধে ২ হাজার ১৮৫টিরও বেশি ভবন এবং ৮ হাজার ৮৪০টি আবাসন ইউনিট পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, পাশাপাশি ৮৯ হাজারেরও বেশি আবাসন ইউনিট আংশিক ধ্বংস হয়েছে।
প্রায় ৪০ শতাংশ আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যা পুনর্নির্মাণে দীর্ঘ সময় লাগবে। পয়োনিষ্কাশন, টেলিকম এবং বিদ্যুতের সঙ্গে সম্পর্কিত অবকাঠামোগত পুনর্নির্মাণে প্রচুর সময় ও বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।
ইসরায়েল ২০০৭ সালে গাজা উপত্যকায় স্থল, সমুদ্র ও বিমান অবরোধ আরোপ করে। যা বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। যদিও ফিলিস্তিনের জিডিপি গত বছর ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপি এখনো ২০১৯ সালের প্রাক-করোনাভাইরাস স্তরের চেয়ে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ কম। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপি ২০১৯ সালের চেয়ে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ কম, যা ১৯৯৪ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি রয়েছে।
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাবিষয়ক সম্পাদকীয় পরিচালক প্যাট থ্যাকার জানান, ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা আগের দফার সংঘাতের তুলনায় কম ছিল। অন্যদিকে অবরোধের ফলে খাদ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পানি ও ওষুধের প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তিনি আরো জানান, গাজার অর্থনীতির যে পরিমাণে ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধার করতে কয়েক বছর সময় লেগে যাবে।










