হাইড্রোজেনচালিত ট্রাক বাজারে আনতে চলেছে ভলভো। সুইডেনের এ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ ট্রাকগুলোয় একবার জ্বালানি পূর্ণ করলে এক হাজার কিলোমিটার বা তার বেশি পথ চলা যাবে। আবার জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে মাত্র ১৫ মিনিটেই নতুন করে জ্বালানি পূর্ণ করা যাবে।

আপাতত পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে চলবে হাইড্রোজেনচালিত ট্রাকগুলো। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে গ্রাহক পর্যায়ে এ পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। তবে বাণিজ্যিকীকরণ হতে হতে এ দশকের শেষ নাগাদ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে ভলভো ট্রাক।

এসব ট্রাকের ফুয়েল সেল তৈরি করে দেবে সেলসেন্ট্রিক। যেটি মূলত ডেইমলার ট্রাকের সঙ্গে গড়ে ওঠা একটি যৌথ অংশীদারত্বের প্রতিষ্ঠান।

ভলভো ট্রাকের প্রেসিডেন্ট রজার এম বলেন, হাইড্রোজেনচালিত বৈদ্যুতিক ট্রাকগুলো অধিক দূরত্বের পথ চলার জন্য অধিক উপযোগী। বিশেষ করে ভারী মালামাল পরিবহনে এবং অনেক বেশি জ্বালানি প্রয়োজন হয় এমন কাজের জন্যও এসব ট্রাক উপযোগী। ভারী এসব ট্রাক যখন বিদ্যুৎ দিয়ে চলে, তখন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হয়।

দি ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির বৈশ্বিক বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিসংখ্যান বলছে, ভারী এসব ট্রাক চালানোর জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োজন। সেই সঙ্গে এতে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হবে, তা হতে হবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন। ব্যাটারি বা জ্বালানি যেটাই ব্যবহার করা হোক না কেন তা যেন দ্রুত চার্জ করা যায় সে ব্যবস্থা থাকতে হবে।

গত কয়েক বছর এ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এ অবস্থায় বাজার ধরতে নানা ধরনের সংযোজন ঘটাতে হচ্ছে। ভলভো ট্রাক শূন্য কার্বন নিঃসরণ প্রযুক্তির দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। এ মুহূর্তে টেসলা ও ডেইমলারও বৈদ্যুতিক ট্রাকে মনোনিবেশ করেছে। ফলে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই মূলত চলছে ভলভোর প্রতিযোগিতা। ভলভো ট্রাকের মতো ডেইমলার ট্রাকও ব্যাটারি-বিদ্যুচ্চালিত এবং হাইড্রোজেনচালিত যান তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

ব্যাটারি-বিদ্যুচ্চালিত ও হাইড্রোজেন ব্যাটারিচালিত যানের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে ডেইমলার ট্রাকের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মার্টিন ডাউম বলেন, আমরা দুটোই ব্যবহার করব। কারণ খাতবিশেষে দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যদি ট্রাকটি শহরের মধ্যে ব্যবহূত হয় যেখানে কম পরিমাণে জ্বালানি প্রয়োজন, তাহলে রাতভর কোনো ডিপোতে চার্জ দিয়ে আবার সকালে বৈদ্যুতিক ট্রাকটি ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু যখন বড় দূরত্বের পথে ব্যবহারের দরকার হবে এবং প্রয়োজন হলে জ্বালানি ভরে নেয়া যাবে, সেক্ষেত্রে হাইড্রোজেনচালিত বাহন ব্যবহার ভালো সিদ্ধান্ত হবে।

মার্টিন ডাউম আরো বলেন, আমাদের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য কেবল এক ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়ি বাজারজাত বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

তবে এ ধরনের ট্রাক তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয় বড় পরিসরে পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেনের জোগান পাওয়া। তাছাড়া ট্রাকের মতো ভারী যানবাহনে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি নবায়ন বা ভরে নেয়ার জন্য যথাযথ অবকাঠামোগত সুবিধাও এখনো তৈরি হয়নি।

হাইড্রোজেনকে বলা হয়, বহুমুখী শক্তির বাহক। বিভিন্ন শিল্পে, বিভিন্নভাবে এটি ব্যবহার করা যায়। শুধু ব্যবহারের ক্ষেত্রেই নয়, হাইড্রোজেন উৎপাদনেরও বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। এর একটি হলো ইলেকট্রোলাইসিস প্রক্রিয়া। যেখানে বৈদ্যুতিক প্রবাহ ব্যবহার করে পানি থেকে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনকে আলাদা করে ফেলা যায়। যদি এ প্রক্রিয়ায় ব্যবহূত বিদ্যুৎ কোনো পুনর্ব্যবহার্য উৎস যেমন বায়ু বা পানি থেকে আসে, তাহলে এটাকে সবুজ বা পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন বলা হবে। যদিও এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি পরিমাণে হাইড্রোজেন উত্পন্ন হয় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে।