প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনার দিকে ঝুঁকছে ওয়ালমার্ট। মঙ্গলবার ওয়ালমার্ট ইনকরপোরেটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৬ সাল নাগাদ ৬৫ শতাংশ স্টোরে অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে এটি। এ ঘোষণার কয়েকদিন আগে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনলাইন অর্ডার গ্রহণ কাজের সঙ্গে জড়িত দুই হাজারেরও বেশি কর্মীকে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। খবর রয়টার্স।

ঘোষণাটি আসে ফ্লোরিডার টাম্পায় মার্কিন এ রিটেইল জায়ান্টির বিনিয়োগকারীদের বার্ষিক বৈঠক চলার সময়। সেখানে আরো বলা হয়, ওয়ালমার্ট এর অনলাইন অর্ডার ডেলিভারি পরিচালনা করতে স্টোরগুলোর পূর্ণ ব্যবহার এবং ই-কমার্সের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে অর্ডার প্রক্রিয়াকরণের গতি বাড়ানোর জন্য অটোমেশনে ব্যাপক অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহী।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে এটি অস্পষ্ট ছিল পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বেসরকারি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দেবে কিনা। ওয়ালমার্টে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ লাখ এবং বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে কর্মরত কর্মীর সংখ্যা ৬০ হাজার। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়, এ পদক্ষেপগুলো মূলত স্বল্প বেতনভুক্ত কর্মীর প্রয়োজনীয়তা কমবে। মার্কিন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ব্যবসার প্রতিটি ধাপে পরিবর্তন যোগ কম কায়িক শ্রমের বিপরীতে উচ্চ বেতনকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আগামী ২০২৬ সালের জানুয়ারি নাগাদ প্রতিষ্ঠানটি এর ফুলফিলমেন্ট সেন্টারের কার্যক্রমের ৫৫ শতাংশই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে আগ্রহী। এতে গড় ইউনিট কস্টের ২০ শতাংশ সাশ্রয় হবে বলে জানানো হয় ওয়ালমার্টের পক্ষ থেকে।

এদিকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টিফেনস ইনকের বিশ্লেষক বেন বিয়েনভেনু তার এক বিবৃতিতে লিখেছেন, সক্ষমতা বৃদ্ধি উন্নত মজুদ ব্যবস্থাপনাকে সমর্থনের পাশাপাশি ওয়ালমার্টের দ্রুতবর্ধনশীল ই-কমার্স ব্যবসাকেও এগিয়ে নেবে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ওয়ালমার্টের পাঁচ হাজারের বেশি স্টোর রয়েছে। তবে উল্লিখিত পদক্ষেপের কারণে স্বল্পমেয়াদে কর্মী ছাঁটাই করা হবে কিনা সে সম্পর্কিত কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি।

বিশ্বের বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি এর বিক্রয় সম্পর্কিত পূর্বাভাসগুলো বজায় রাখতে সমর্থ হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মোট বিক্রয় ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ এবং শেয়ারপ্রতি আয় ৫ দশমিক ৯০ থেকে ৬ দশমিক শূন্য ৫ ডলার বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটি আগের পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রথম প্রান্তিকের বিক্রয় ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করতেও সমর্থ হয়।

ওয়ালমার্ট অনলাইন অর্ডার সম্পর্কিত কার্যক্রমে গতি আনতে প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে গ্রোসারি রোবোটিকস কোম্পানি অ্যালার্ট ইনোভেশন ক্রয় এবং কেনাপের মতো কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্ব। যাতে কর্মচারীদের ই-কমার্স অর্ডার প্রসেস করার সময় ১২ থেকে মাত্র পাঁচটি পর্যায়ে কাজগুলো কমিয়ে নিয়ে আসতে পারে।

ফেব্রুয়ারিতে ওয়ালমার্টের প্রধান নির্বাহী ডগ ম্যাকমিলন বলেছিলেন, অটোমেশনের সুযোগ ও সুবিধাগুলো কাজে লাগানোর বিষয়ে তিনি ভীষণ রোমাঞ্চিত। চলতি বছর অটোমেশন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা হিসেবে মূলধন ব্যয়ের বাজেট দেড় হাজার কোটি ডলার বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে তার।