হরর জগতের আইকনিক চরিত্র ড্রাকুলাকে আশ্রয় করে রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টের কাছে তৈরি হচ্ছে বৃহৎ বিনোদন কমপ্লেক্স। ড্রাকুলা ল্যান্ড নামের পার্কটি রোমানীয় লোককথা ও মিথোলজিকে আধুনিক ও মাল্টি সেনসারি প্রযুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ১ বিলিয়ন ইউরো বা ১১৭ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ।
প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার বর্গমিটার এলাকার ড্রাকুলা ল্যান্ডে থাকবে ছয়টি আলাদা থিমভিত্তিক জোন এবং ৪০টির বেশি আকর্ষণ। উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ হলো ট্রানসিলভানিয়া, ড্রাকুলার দুর্গ, লন্ডন টাউন ও নিউ অরলিন্সের বন্দর। এ থিম পার্কে থাকবে একটি ২২ হাজার ৫০০ আসনের অ্যারেনা। যেখানে আয়োজন করা যাবে কনসার্ট, উৎসব, ই-স্পোর্টস ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক আয়োজন।
পুরো কমপ্লেক্সে থাকবে প্রায় ১ হাজার ২০০ কক্ষের হোটেল সুবিধা। থাকছে ফ্যাশন ও হোম-ডেকর আউটলেট, অ্যাকুয়া পার্ক, থার্মাল স্পা ও রেসিং ট্র্যাক। বিশেষায়িত ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তি হাবে গুরুত্ব পাবে গেমিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল ক্রিয়েটিভ আর্ট-সংশ্লিষ্ট স্টার্টআপগুলো।
ড্রাকুলা ল্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ড্রাগোশ দোব্রেস্কু বলেন, ‘রিয়েল এস্টেট খাতে অর্জিত সব অভিজ্ঞতাকে আমরা ড্রাকুলা ল্যান্ডে একত্র করছি। এতে রয়েছে শৃঙ্খলা, কঠোর পেশাদারত্ব, দূরদৃষ্টি ও ভিন্ন ভিন্ন দক্ষতার বড় টিম পরিচালনার সক্ষমতা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ড্রাকুলা ল্যান্ডে এমন একটি গল্প যুক্ত হয়েছে, যা পার্কের প্রতিটি বর্গমিটারে বিশেষ অর্থ ও তাৎপর্য যোগ করে। আমার কাছে ড্রাকুলা ল্যান্ড একটি জাতীয় প্রকল্প। এটি এমন একটি প্রতীক, যা প্রমাণ করে রোমানিয়া শুধু ভবন নয়, বরং সত্যিকারের ল্যান্ডমার্ক গড়তে পারে এবং গড়া উচিত।’
ডেভেলপাররা এ বিনোদন গন্তব্যের একটি ডিজিটাল সংস্করণ তৈরির পরিকল্পনা করছেন, নাম ড্রাকুলা ল্যান্ড মেটাভার্স। থ্রিডি সফটওয়ার প্লাটফর্ম আনরিয়েল ইঞ্জিন ফাইভ ব্যবহার করে তৈরি হবে এটি। বাস্তব পার্কের প্রতিচ্ছবি হিসেবে কাজ করবে ডিজিটাল সংস্করণটি। এতে যুক্ত থাকবে ডিজিটাল অ্যাসেট, এআই-ভিত্তিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা এবং পার্কে অনুষ্ঠিত ইভেন্টগুলোর সঙ্গে রিয়েল টাইম সংযোগের সুবিধা।
বর্তমান প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রাথমিক ধাপে বছরে প্রায় ৩০ লাখ দর্শনার্থী আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পাঁচ হাজারের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছরে ড্রাকুলা ল্যান্ডের অর্থনৈতিক প্রভাব দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫০০ কোটি ইউরো। —খবর কাজিনফর্ম ও ড্রাকুলা ল্যান্ড









