চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) সৌদি আরবে পর্যটকরা খরচ করেছেন ১৫ হাজার কোটি রিয়াল বা ৪ হাজার কোটি ডলার। ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় গত ছয় মাসে দেশটিতে পর্যটকের সংখ্যা ও তাদের ব্যয়ের পরিমাণ উভয়ই প্রায় ১০ শতাংশ হারে বেড়েছে। খবর আরব নিউজ।

সম্প্রতি গ্রীষ্মকালীন পর্যটন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক কনফারেন্সে খরচের এ তথ্য দেন সৌদি পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আল-খাতিব।

মন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে পর্যটন আকর্ষণ ধরে রাখতে নতুন নতুন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আগস্ট থেকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য নতুন ট্যুরিস্ট ভিসার প্রচলন হবে।

সৌদি আরব ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক ১৫ কোটি পর্যটককে সেবা দেয়ার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এরই মধ্যে একসময় জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল থাকা দেশটি অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ নীতির আওতায় পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

দেশটির বেসামরিক উড়োজাহাজ কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যানুসারে, জানুয়ারি-জুনের মধ্যে সৌদি আরবের আকাশপথে ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় যাত্রী বেড়েছে ১৭ শতাংশ। গত বছর ওই সময় ৫ কোটি ৩০ লাখ মানুষ এয়ারলাইনস পরিষেবা গ্রহণ করেছিলে, এবার তা ৬ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ার হার ছিল ১২ শতাংশ। ২০২৩ সালের প্রথমার্থের ৩ লাখ ৩৯ হাজার ফ্লাইটের বিপরীতে চলতি বছর চলাচল করে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ফ্লাইট।

আহমেদ আল-খাতিব বলেন, ‘চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আমরা ছয় কোটি দর্শনার্থী পেয়েছি।’

সর্বশেষ ডাটা অনুসারে, ২০২৩ সালে সৌদি আরবে পর্যটকের সংখ্যা পৌঁছে ১০ কোটি ৯৩ লাখ। এর মধ্যে ৮ কোটি ১৯ লাখ ছিলেন স্থানীয় ও বাকি ২ কোটি ৭৪ লাখ বিদেশী নাগরিক। ওই বছর পর্যটকরা দেশটিতে ২৫ হাজার ৫৬০ কোটি রিয়াল খরচ করেন।

২০২০ সালের জুন থেকে পর্যটন খাতের উন্নয়নে নতুন নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ করে আসছে সৌদি আরব। এরই মধ্যে মাঝারি ও বড় আকারে শতাধিক প্রকল্পে দেশটি ব্যয় করেছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি রিয়াল।