গম থেকে উৎপাদিত আট-ময়দার বাণিজ্য পূর্বাভাস কমিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি)। মূলত প্রত্যাশার চেয়ে শ্লথগতিতে ২০২২-২৩ মৌসুম শুরু হওয়ায় পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রেইন মার্কেট রিভিউ প্রতিবেদনে কাউন্সিল তিন লাখ টন বাণিজ্য পূর্বাভাস কমিয়েছে। প্রাক্কলন অনুযায়ী, এ বছর মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ৪০ লাখ টনে। গত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় এটি ১১ লাখ টন কম। তবে ২০২০-২১ মৌসুমের তুলনায় বাণিজ্য কিছুটা বাড়তে পারে। ওই সময় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৩৮ লাখ টন। তথ্য বলছে, পূর্বাভাস সত্য হলে এটিই হতে যাচ্ছে ২০১৩-১৪ মৌসুমের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন বাণিজ্য। ওই সময় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৩১ লাখ টন।
এদিকে সম্প্রতি গম সরবরাহ কমে যাওয়ার পূর্বাভাসের পর ইরাক ক্রয়ের পরিমাণ বাড়িয়েছে। দেশটি বিশ্বের শীর্ষ আটা-ময়দা আমদানিকারক। চলতি মৌসুমে দেশটির আমদানি লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মোট আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে ২৭ লাখ টনে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছর দেশটি ২২ লাখ টন আমদানি করেছিল। সে হিসেবেও আমদানি বাড়বে।
২০২১-২২ মৌসুমে আফগানিস্তান ১৭ লাখ টন আটা-ময়দা আমদানি করেছিল। এ মৌসুমে তা কিছুটা বাড়বে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮ লাখ টনে। অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত দেশটির আমদানি খুব বেশি ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে সাব-সাহারান আফ্রািকার দেশগুলোয় আমদানি কমে ১২ বছরের সর্বনিম্নে নামতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ অঞ্চলে ১৯ লাখ টন আটা-ময়দা আমদানি হতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় সাড়ে তিন লাখ টন কম। গম থেকে উৎপাদিত সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় ভোক্তারা বিকল্প পণ্য ব্যবহারে ঝুঁকছেন।
প্রান্তিকভিত্তিক পর্যালোচনায় কমানো হয়েছে চীনের আমদানি পূর্বাভাসও। এ বছর আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে দুই লাখ টনে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। কভিড-১৯-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ও লকডাউনের কারণে চীনের অর্থনীতি মন্দার পথে হাঁটছে। এ কারণে আটা-ময়দার ব্যবহার ও আমদানি নিম্নমুখী হয়ে উঠেছে। তবে রাশিয়ার কোনো তথ্য দিয়ে পারেনি আইজিসি। দেশটি চীনে শীর্ষ আটা-ময়দা সরবরাহকারী দেশ।
এদিকে চলতি বছর তুরস্ক আটা-ময়দা রফতানিতে বিশ্বের শীর্ষ স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছে আইজিসি। যদিও দেশটির রফতানি মৌসুম খুবই শ্লথগতিতে শুরু হয়েছে। জুলাইয়ে দেশটির রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই রফতানি করা হয়েছে পূর্ব এশিয়া ও এর আশপাশের দেশগুলোয়।










