চলতি অর্থবছর ভারতের চা রফতানি তিন কোটি থেকে ৩ কোটি ৩০ লাখ কেজি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২৩ কোটি কেজিতে। অব্যাহত চাহিদা বৃদ্ধি রফতানিতে এমন প্রবৃদ্ধি নিয়ে আসতে বলে প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ শ্রীলংকায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে প্রতিযোগিতায়ও একক আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে দেশটি। তৈরি হয়েছে নতুন নতুন বাজারও। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চা রফতানি ১৬ শতাংশ বাড়িয়েছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৮০ হাজার কেজিতে। রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৩ কোটি রুপি। গত বছরের একই সময়ে দেশটি ১৪ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার কেজি চা রফতানি করেছিল, যা থেকে আয় এসেছে ৩ হাজার ৯০৪ কোটি রুপি।
বছরের একই সময়ে অর্থোডক্স চা রফতানি প্রায় ২২ শতাংশ বেড়েছে। রফতানি করা হয়েছে ৭ কোটি ৯৯ লাখ ৪০ হাজার কেজি। রফতানি থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৩৫৭ কোটি রুপি। গত বছরের একই সময় অর্থোডক্স চা রফতানির পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার কেজি, যা থেকে আয় হয় ১ হাজার ৮৩০ কোটি রুপি।
ইন্ডিয়ান টি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান অংশুমান কানোরিয়া বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা ২২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২৩ কোটি কেজি চা রফতানির প্রাক্কলন করেছি। রফতানির এ লক্ষ্য অর্জনে চেষ্টা চালাচ্ছি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক জটিলতা না থাকলে রফতানি আরো বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। মূল্য পরিশোধসংক্রান্ত জটিলতার কারণে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরানে ভারতের চা রফতানি কমে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার কেজিতে নেমেছে।
চা রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের অন্যতম প্রতিযোগী দেশ শ্রীলংকা। তবে বিদ্যমান অর্থনৈতিক টানাপড়েন আর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশটির চা উৎপাদন কার্যক্রম বড় ধরনের প্রতিবন্ধতার সম্মুখীন। স্বাভাবিকভাবেই চায়ের উৎপাদন কমেছে দেশটিতে। এ অবস্থায় বৈশ্বিক বাজার চাহিদার বিপরীতে ভারতের সামনে চায়ের রফতানি বৃদ্ধির সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।










