মার্কিন শর্ট সেলার হিনডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদন প্রকাশের দুই মাসের পর বেশ বড় আকারের নীতিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে আদানি গ্রুপকে। এর অংশ হিসেবে অনেক বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয়েছে গৌতম আদানি নেতৃত্বাধীন গ্রুপটিকে।
ভারতভিত্তিক বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হিনডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বাজার মূল্য হারিয়েছে আদানি গ্রুপ। এতে বিভিন্ন নতুন খাতে যেসব আগ্রাসী বিনিয়োগ পরিকল্পনা ছিল আদানিকে তার রাশ টেনে ধরতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পেট্রোকেমিক্যাল খাতে আপাতত বিনিয়োগ করছে না আদানি গ্রুপ। এছাড়া ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় মুন্দ্রায় গ্রিনফিল্ড প্রকল্পে ৪০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকেও আদানিকে পিছু হটতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্দর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে মনোযোগ থাকছে বলে জানান তারা।
ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দেয়ায় আদানি গ্রুপের শেয়ারদরে বড় আকারের পতন হয়েছে। গত মঙ্গলবার শেয়ারদর পতনে ভারতীয় কোম্পানিটির বাজার মূলধন কমেছে ৫২ হাজার ৩০০ কোটি রুপি বা ৬৪০ কোটি ডলার। এতে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকের পর পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বড় পতন দেখল আদানি গ্রুপ।
সম্প্রতি ইকোনমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, ৪০০ কোটি ডলার পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ করেছে গৌতম আদানি নেতৃত্বাধীন কোম্পানিটি। এতে আদানি গ্রুপের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দেয়। গত জানুয়ারিতে হিনডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদনের পর বড় আকারের ধাক্কা খায় আদানি গ্রুপ। বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় তিনে উঠে এলেও ওই প্রতিবেদনের পর ২০-এর বাইরে চলে যান গৌতম আদানি।
৩০০ কোটি ডলারের সেতু ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ১৮ মাস থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর বা তার চেয়ে বেশি বাড়ানোর দাবি তুলেছে আদানি গ্রুপ। ইকোনমিক টাইমসের এ প্রতিবেদনে আদানি গ্রুপের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরে পতন হতে শুরু করে।
মঙ্গলবার আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেডের শেয়ারদর পতন হয়েছে ৯ শতাংশ। মুম্বাই পুঁজিবাজারে গ্রুপটির ফ্ল্যাগশিপ প্রতিষ্ঠান আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের শেয়ারদর ৮ শতাংশ কমেছে। আদানি গ্রিন এনার্জি, আদানি পাওয়ার ও আদানি উইলমারের শেয়ারদর কমেছে ৫ শতাংশ। এছাড়া হংকংয়ে আদানি গ্রুপের ১৫টি ডলার বন্ডের মধ্যে ১২টিরই পতন হয়েছে।










