পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর হিসাব বছর সাধারণত জুন ও ডিসেম্বরে শেষ হয়। হিসাব বছর শেষে কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করে। চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের বার্ষিক কিংবা অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণার আগ পর্যন্ত আর কোনো কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে না। গতকাল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।
বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম স্বাক্ষরিত নতুন আদেশে কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বেশকিছু শর্তারোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সর্বশেষ ঘোষিত লভ্যাংশের পর থেকে কিংবা তালিকাভুক্তির পর থেকে টানা দুই বছর লভ্যাংশ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হলে সেই কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠানো হবে। আইন অনুসারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজনে ব্যর্থ হলে সেক্ষেত্রেও ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হবে। তবে কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া কিংবা দৈব দুর্ঘটনার কারণে এজিএম আয়োজন করতে না পারলে সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
কোনো কোম্পানির উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম ন্যূনতম ছয় মাসের জন্য বন্ধ থাকলে সেক্ষেত্রে সেই কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হবে। তবে যদি পুনঃসংস্কার কিংবা বিএমআরই (ভারসাম্য, আধুনিকীকরণ, পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণ) কিংবা দৈব দুর্ঘটনাজনিত কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকলে সেক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না।
পরিশোধিত মূলধনের তুলনায় পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ বেশি হলে সেক্ষেত্রে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হবে। তবে যেসব কোম্পানি পরিশোধিত মূলধনের চেয়ে পুঞ্জীভূত লোকসান বেশি থাকা সত্ত্বেও সর্বশেষ পঞ্জিকাবর্ষে তার চলতি মুনাফা থেকে অন্তর্বর্তীকালীনসহ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে এবং নিয়মিত এজিএম আয়োজন করেছে সেক্ষেত্রে সেই কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠানো হবে না।
যেকোনো ধরনের সিকিউরিটিজ আইন, বিধিমালা, প্রবিধান, প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা অম্যান্য এবং স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্তি প্রবিধানের শর্ত ধারাবাহিক লঙ্ঘনের কারণে বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে কোনো কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠানো যাবে। তবে এক্ষেত্রে আইনি লঙ্ঘনের বিষয়টি স্টক এক্সচেঞ্জ নিয়মিত পর্যালোচনা করবে এবং বিএসইসির পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করবে।
ব্যাংক, বীমা ও অব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) ব্যতীত অন্য যেকোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির পর্ষদ সময়ে সময়ে বিনিয়োগকারীদের অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ পরিশোধ করতে পারে। এ ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশকে কোম্পানির শ্রেণীকরণ সমন্বয় বা স্থানান্তরের জন্য বিবেচনা করা হবে।
ব্যাংক, বীমা ও এনবিএফআই বাদে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা বা পরিচালকরা বিএসইসির পূর্বানুমোদন ছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কিংবা স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরে কোনো মাধ্যমেই তাদের শেয়ার কেনাবেচা কিংবা স্থানান্তর করতে পারবেন না।
শেয়ার ক্লিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সেটলমেন্ট অব ট্রানজেকশন্স বিধিমালার ৫(২) বিধির ওপর বিএসইসির এ নির্দেশনা প্রাধান্য পাবে। এক্ষেত্রে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা কোম্পানির শেয়ার ক্লিয়ারিং হবে যেদিন লেনদেন হবে তার তিনদিন পরে (টি+৩)। দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সেটলমেন্ট অব ট্রানজেকশন্স বিধিমালায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা কোম্পানির শেয়ার ক্লিয়ারিংয়ের সময় নির্ধারিত ছিল টি+৯।
কমিশনের নতুন আদেশ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরবর্তী বার্ষিক বা অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণার পরদিন থেকে কার্যকর হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নতুন আদেশের মাধ্যমে এর আগে জেড ক্যাটাগরিসংক্রান্ত কমিশনের জারি করা বিভিন্ন আদেশ রদ ও ক্ষেত্রবিশেষে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আগামী জুন ও ডিসেম্বরে যেসব কোম্পানির হিসাব বছর শেষ হবে সেগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার সিদ্ধান্ত আসার পর থেকে নতুন আদেশ অনুসারে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে শ্রেণীবিন্যাস করা হবে। ফলে লভ্যাংশ ঘোষণার আগ পর্যন্ত নতুন করে আর কোনো কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাচ্ছে না। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।










