উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থাভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর সঙ্গে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির বাণিজ্য জোরদার হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দুই অঞ্চলের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৫৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে। বুধবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয় যুক্তরাজ্যভিত্তিক থিংক ট্যাংক এশিয়া হাউজ।

চলতি দশকে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত সম্প্রসারমাণ অঞ্চল দুটির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে। থিংক ট্যাংকটি বলছে, ২০২৮ সালের মধ্যে জিসিসির বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উন্নত অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাবে এশিয়া। জিসিসির মোট বাণিজ্যে এশিয়ার হিস্যা থাকবে ৩৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। বর্তমানে এশিয়ার হিস্যা যেখানে ৩০ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

এশিয়া হাউজের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফ্রেডি নিভ বলেন, ‘‌উপসাগরীয় অঞ্চল ও এশিয়ার মধ্যে দ্রুত সম্প্রসারমাণ বাণিজ্য সম্পর্ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ব্যবসা ও রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। জ্বালানি তেল ও তেলবহির্ভূত খাত ছাড়াও বিভিন্ন শিল্পে উভয় পক্ষের বিনিয়োগ বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাত।’

দ্রুত সম্প্রসারমাণ এশিয়ার বাজারকে লক্ষ্য করে এগোচ্ছে জিসিসিভুক্ত দেশগুলো। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, এশিয়ার প্রবৃদ্ধি হার বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

চলতি বছরে এশিয়ার প্রবৃদ্ধি হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। গত বছরের ৩ দশমিক ৮ শতাংশের চেয়ে যা বেশি। এশিয়ার উদীয়মান ও উন্নত অর্থনীতিগুলোর ৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হারও অঞ্চলটির সার্বিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

আইএমএফের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, চলতি বছরে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে অর্ধেকের বেশি ভূমিকা রাখতে পারে চীন ও ভারত। এরই মধ্যে মহামারী-পূর্ব প্রবৃদ্ধি হারে পৌঁছেছে কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশ। তেলসমৃদ্ধ জিসিসি অর্থনীতি এশিয়ার অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দিয়েছে। এরই মধ্যে এশিয়ার তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতি ভারতের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (সেপা) চুক্তি সই করেছে ‌ইউএই। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহৎ এ অর্থনীতি।

চুক্তি সইয়ের পর ইউএই ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে এশিয়ার অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছে উপসাগরীয় দেশটি। এশিয়ায় বড় অংকের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে জিসিসির রাষ্ট্রায়ত্ত তহবিলগুলো (এসডব্লিউএফ)। উপসাগরীয় ওই রাষ্ট্রায়ত্ত তহবিলগুলোর সম্পদ রয়েছে ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। তহবিলগুলোর বিনিয়োগ কৌশল বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এশিয়ার বাজারে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে তহবিলগুলো। এশিয়া হাউজের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০২২ সালের জুলাই নাগাদ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাইরে ২ হাজার ৮৬০ কোটি ডলার মূল্যের অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছে এসব তহবিল। ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় যা ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। বিনিয়োগের বড় একটি অংশ গিয়েছে চীন, ভারত ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশে।

এশিয়া হাউজের ফ্রেডি নিভ মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বিরাজ করলেও গত বছর জিসিসির এশিয়া অভিমুখ লক্ষণীয় একটি ঘটনা। চলতি দশকের বাকি অংশে এ সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। এতে বিশ্ববাণিজ্য, আন্তঃসীমান্তীয় বিনিয়োগে বড় আকারের পরিবর্তন আসবে, যা প্রবৃদ্ধি, ব্যবসা ও ভূরাজনীতিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।