বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবের অর্থনীতি ২০৩২ সালের মধ্যে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বা ৩৯০ কোটি ডলার বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। প্রবৃদ্ধির পেছনে অন্যতম ভূমিকা রাখবে দেশটির কর্মশক্তিতে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।

এসঅ্যান্ডপির প্রতিবেদন অনুসারে, শ্রমবাজার সংস্কারের ফলে সৌদি নাগরিকদের নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ ২০২২ সালে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০১৬ সালে তাদের অংশগ্রহণের হার ছিল ১৯ শতাংশ। অর্থনীতিতে নারীর সামগ্রিক অংশগ্রহণের হার ২০১৭ সালে ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ ছিল, যা ২০২৩ সালের মার্চে ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সৌদি আরবের নারী শ্রমশক্তির সবচেয়ে বড় অংশগ্রহণ এরই মধ্যে ঘটেছে। এমনকি এ অংশগ্রহণ বৃদ্ধির হার কম থাকলেও তা বিশ্বের ১৭তম বৃহত্তম অর্থনীতিকে উপকৃত করবে।

এসঅ্যান্ডপি গবেষণা বিশ্লেষকরা প্রতিবেদনে বলছেন, ‘আগামী ১০ বছরে সামগ্রিক অংশগ্রহণের হার বার্ষিক মাত্র ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়লেও দেশের বার্ষিক প্রকৃত জিডিপি বছরে দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট থেকে ২ দশমিক ৪ পর্যন্ত বাড়বে। আগামী ১০ বছরের জন্য শ্রমশক্তির বৃদ্ধি গত ২০ বছরের মতোই থাকবে।’ 

২০১৬ সালে ঘোষিত সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ দেশের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে অন্যান্য উদ্দেশ্যের পাশাপাশি রয়েছে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো। উদ্যোগটি ২০৩০ সালের মধ্যে নারীদের জন্য বিশেষ করে বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তিন লাখে উন্নীত করবে। একই সময়ে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ ৩০ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সৌদি আরবের অর্থনীতি চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে কিছুটা দ্রুতগতিতে ছিল। এর পেছনে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতগুলো।

দেশটি তাদের অর্থনীতি বৈচিত্র্য্যময় করতে জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতগুলোর উন্নতিতে নজর দিচ্ছে। এছাড়া দেশের ব্যবসা খাতের উন্নয়নে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি সরকারি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ভিশন ২০৩০-এর মূল লক্ষ্য সৌদি বেকারত্বের হার ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা। পরিসংখ্যানের জেনারেল অথরিটি জুনে জানায়, ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে সৌদি নারীদের বেকারত্বের হার তীব্রভাবে কমে ১৬ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসে, যা এক বছর আগে ২০ দশমিক ২ শতাংশ ছিল। পুরুষদের বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৬ শতাংশে রয়েছে, যা এক বছর আগে ৫ দশমিক ১ শতাংশ ছিল।

জাদওয়া ইনভেস্টমেন্ট এপ্রিলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, তিন বছরে শ্রমশক্তিতে নারী প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে ৩৬, যা আগে ছিল ২০ শতাংশ। শিশু যত্ন ও পরিবহন পরিষেবা সম্প্রসারণ এ প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। এছাড়া পর্যটনের মতো উন্নয়নশীল খাতে নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আরো বেশি নারী শ্রমবাজারে যোগদান করেছে।

এসএন্ডপি রিপোর্টে দেখা গেছে, সৌদি নারীদের ৬০ শতাংশ সরকারি খাতে নিযুক্ত, যেখানে প্রায় ৬৭ শতাংশ কর্মজীবী প্রবাসী নারী অলাভজনক সংস্থা, গার্হস্থ্য কাজ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মতো অন্যান্য খাতে নিযুক্ত।