এক বছরের মধ্যে সিঙ্গাপুরের মূল্যস্ফীতি কমেছে। ২০২২ সালে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ। সেখানে গত বছরের ডিসেম্বরে তা কমে ৪ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে এ সময় ভোক্তা মূল্য দ্রুতগতিতে বেড়েছে। খবর স্ট্রেইটস টাইমস।
সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে কোনো পণ্য বিক্রির জন্য যে মূল্য নির্ধারণ করা থাকে, সেটিই ভোক্তা মূল্য। উৎপাদনকারী থেকে বাজারে আসা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে পণ্যের দাম পরিবর্তন হয়ে থাকে।
গত বছর সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কমে ৪ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে ভিত্তি মূল্যস্ফীতি ২০২২ সালের ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে গত বছর ৪ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন যানবাহন ও বাসস্থান খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়। সিঙ্গাপুরের মনিটারি অথরিটি (এমএএস) এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (এমটিআই) জানায়, পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) ৮ শতাংশে উন্নীত করা হয়। যে কারণে ২০২৩ সালে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ডিসেম্বরে দেশটির ভিত্তি মূল্যস্ফীতি বছরওয়ারি হিসেবে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। নভেম্বরে যার পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ ও ব্লুমবার্গের এক জরিপে বিশ্লেষকরা ৩ শতাংশের ওপরে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। নভেম্বরে যেখানে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল, ডিসেম্বরে তা ৩ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
সিঙ্গাপুর মনিটারি অথরিটি এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এক বিবৃতি দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়, ২০২৪ সালের প্রথম দিকে ভিত্তি মূল্যস্ফীতি প্রভাবিত হবে। মূলত বিভিন্ন পণ্যের ওপর আরোপিত কর ও প্রশাসনিক পর্যায়ে বাস, ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচ বৃদ্ধি এ প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে এমএএস ও এমটিআই চলতি বছরের জন্য ভিত্তি মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস সংশোধন করে ২ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি কমলেও এখনো বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলে সিঙ্গাপুরের মনিটারি অথরিটি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। ঝুঁকির মধ্যে ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে বৈশ্বিক শক্তিতে নতুন ধাক্কা, পণ্য জাহাজীকরণের খরচ, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে খাদ্যদ্রব্যের উচ্চমূল্য ও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে কর্মী সংকট। এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা মূল্যস্ফীতি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় ৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ব্যয় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছিল।
যে কারণে ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়ে। এছাড়া আবাসন ও ইউটিলিটি খাতে ব্যয় ৩ দশমিক ৮ ও খাদ্যদ্রব্যের দামও ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।










