যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডে আগের বছরের তুলনায় সৌদি আরবের বিনিয়োগ বেড়েছে। চলতি বছরের জুনে মার্কিন বন্ডে সৌদি বিনিয়োগ ১৪ হাজার ৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর আরব নিউজ।
সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশ সুরক্ষা, নানা সুবিধা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে এসব বন্ডে বিনিয়োগ করে। ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগকারী শীর্ষ ২০ দেশের মধ্যে একমাত্র আরব দেশ সৌদি আরব। মার্কিন অর্থ বিভাগ বলছে, বন্ডে বিনিয়োগকারী দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ১৭তম অবস্থান বজায় রেখেছে।
মাসভিত্তিক হিসাবেও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডে সৌদি আরবের বিনিয়োগ বেড়েছে। মে মাসে দেশটির বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৬৩০ কোটি ডলার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও অর্থনৈতিক অবস্থান জোরদার করতে সার্বভৌম সম্পদের কৌশলগত ব্যবহার থেকে এ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশটি। জ্বালানি তেলবহির্ভূত অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মার্কিন বন্ড বিনিয়োগ বাড়িয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি আরবের পাশাপাশি গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) অন্য দেশগুলো মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৫২০ কোটি ডলার, আগের মাসে যা ছিল ৬ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার। অন্যদিকে জুনে ৫ হাজার ৮০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিল কুয়েত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি দেখছে না। বরং স্থিতিশীল রিটার্ন বিনিয়োগে আরো উৎসাহিত করছে। জিসিসির অন্য দেশের তুলনায় কাতার ও ওমানের হিস্যা কম হলেও আঞ্চলিক সামগ্রিক বিনিয়োগে তাদের অবদান রয়েছে। জুনে ওমান ও কাতারের বিনিয়োগ ছিল যথাক্রমে ৭৬০ কোটি ও ৭৪০ কোটি ডলার। ওই মাসে অঞ্চলটি থেকে সবচেয়ে কম ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে বাহরাইন।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, এসব তথ্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তত্ত্বাবধায়ক ও ব্রোকার ডিলারদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেহেতু বিদেশী ব্যাংক ব্যবহার করা হয়, তাই কোন দেশের সুনির্দিষ্ট কতটা বিনিয়োগ আছে, তার প্রকৃত চিত্র নাও পাওয়া যেতে পারে।










